জুবায়ের সিদ্দিকীঃ ১৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১১টা। নগরীর চশমা হিলে শেখ ফরিদ জামে মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানের দিকে শত শত মানুষের ঢল। হ্যাঁ আজ ছিল মহিউদ্দিন চৌধুরীর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।
২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেছিলেন। ছোট ছোট দলে ফুলের তোড়া নিয়ে নেতার কবরে রেখে যখন মোনাজাত করছিলেন জনতা, তখন কারো কারো চোখের পানি পড়ছিল গড়িয়ে। না কোন রক্তের সম্পর্ক নয়, ছিল আত্মার সম্পর্ক। এমন এক নেতা ছিলেন মহিউদ্দিন চৌধুরী যে তার কোন বিকল্প নেই চট্টগ্রামে।
গণমানুষের অত্যন্ত আপনজন এই নেতা চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে যে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন তা আজ পর্যবেক্ষন করা গেল তার কবরের পাড়ে দাঁড়িয়ে। দুপুর গড়াবার আগেই ফুলে ফুলে ভরে গেল কবর।
চট্টলবীর এই সিংহপুরুষ কোনদিন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। প্রিয় নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর অনেক বর্ণচোরা ও সুযোগসন্ধানী নেতাকে ভুলে গিয়ে পছন্দের নেতাদের চামচাগিরি ও চাটুকারের খাতায় নাম লিখালেও মোনাফেকরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর জনপ্রিয়তা কোনভাবে ম্লান করতে পারেননি।
মহিউদ্দিন চৌধুরী নেই। তবে তার আদর্শ ও নীতিকে আঁকড়ে ধরে শত শত নেতাকর্মী এখনও বজ্রকণ্ঠে শপথ নেন, “তোমার কীর্তি শতত উদ্দিন, চট্টলবীর মহিউদ্দিন”।
চশমা হিলের বাসায় হয়েছে কোরানখানি, মিলাদ মাহফিল। এতিমখানার এতিমেরা এসে দোয়া করে গেল দুহাত তুলে তাদের প্রিয় মানুষটির জন্য। মানুষের ভালবাসায় ও আন্তরিকতায় পরিপূর্ণ এই মানুষটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য করেছেন অগনিত উন্নয়নকর্মকান্ড।
তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে মানুষের ঢল দেখে মনে হলো, আমাদের এই প্রাণপ্রিয় নেতা মানুষের কতো আপনজন ছিলেন। তা এখানে এসে না দেখলে বুঝা যেত না।
