বন্দরে চাঞ্চল্যকর মহিউদ্দিন হত্যাঃ হাজী ইকবালসহ ২০ জনের বিচার শুরু
সিটি নিউজঃ চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা এলাকায় চাঞ্চল্যকর যুবলীগ কর্মী মহিউদ্দিন হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত ২০ জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম মোজাম্মেল হক আসামিদের বিরুদ্ধে এ চার্জ গঠন করেন।
এ মামলার চার্জশিটভূক্ত আসামিরা হলেন- বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল, তার ভাই মুরাদ, মেয়ের জামাই ও ছেলে আলী আকবর ইকবালসহ ২০ জন। এরমধ্যে হাজী ইকবালের ছেলে সম্প্রতি পতেঙ্গা আউটার রিং রোডে বেপরোয়া বাইক স্ট্যান্ড করতে গেলে তার প্রতিবাদকারী এক বিচারককে পিটিয়ে সহযোগীসহ জেলে গেছেন। হাজী ইকবালসহ
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত অন্যান্য আসামিরা নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন।
এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের ৫ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ মামলাটি বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। মামলার বাদী নুর সেহের বেগমের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিতে গেজেট প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আদালত সূত্র জানায়, চার্জগঠনের জন্য আজকের তারিখ ছিল, সে অনুযায়ী চার্জগঠন হয়েছে। এর মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে মহিউদ্দিন হত্যা মামলায় বিচার শুরু হয়ে গেছে। চার্জগঠনের সময় একজন ছাড়া হাজী ইকবালসহ ১৯ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ দুপুরে বন্দর থানার মেহের আফজল উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উপলক্ষে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বৈঠক চলাকালে মহিউদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় হাজী ইকবালের ছেলে আলী আকবর, ভাই মুরাদসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে ছিলেন। মূলত হাজী ইকবালের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল গিয়ে মহিউদ্দিনকে খুন করে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসে করে পালিয়ে যায়। হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত মহিউদ্দিনের মা নুর সেহের বেগম বাদী হয়ে হাজী ইকবালসহ ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
গুরুত্বপূর্ণ এ মামলায় ২০১৮ সালের ২২ জুলাই পতেঙ্গার বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইকবাল, তার ছেলে আলী আকবর ইকবাল, মেয়ে জামাই এবং ভাইসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। বর্তমানে হাজী ইকবালসহ চার্জশিটভুক্ত নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছেন।
হাজী ইকবাল একসময় বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য ১০ বছর আগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে তিনি নগরীতে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবেই অধিক পরিচিত। তার ছেলে আলী আকবর ইকবাল পরিচিত যুবলীগ নেতা হিসেবে।
