সিটি নিউজঃ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বের প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত ও আস্থাশীল আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী। দলীয় সভানেত্রির প্রশ্নে সবাই আপোসহীন ও ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অনেকেই মানছেন না দলের “চেইন অব কমান্ড”। যে যার মতো চলছেন। জুনিয়র মানছেন না সিনিয়রদের। চলমান ও সমাপ্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলীয় এমপি-মন্ত্রিরা কাজ করার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। চসিক নির্বচানে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থন নিয়ে মুরব্বীদের হস্তক্ষেপ হতাশ করেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের।
স্থানীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রিয় নেতাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আভ্যন্তরীন বিশৃংখলা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রাজপথে বিরোধীদের আন্দোলন না থাকায় এখন নির্লিপ্ত ও নির্ভার আওয়ামী লীগ। ফাঁকা মাঠে আওয়ামী লীগ এখন নিজেদের মধ্যে ঠেলাঠেলি ও কোন্দলে লিপ্ত। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দলটির সামগ্রীক ভাবমূর্তির ওপর। এসব কর্মকান্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় দলীয় ‘চেইন অব কমান্ড’ খুবই দূর্বল হয়ে পড়েছে।
সারাদেশের মতো চট্টগ্রামে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সমর্থন দেওয়া প্রার্থীদের ব্যাপারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা কিছুই জানতেন না। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী চসিক নির্বাচনের পূর্বে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, রাজনীতিতে কোন্দল সৃষ্টি করবেন না। এখানে কোন্দল করবেন না। চসিক নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী নিয়ে বহু খেলা হয়ে গেছে। বহু তামাশা হয়ে গেছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাথে বসে কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণ করা হলে আজকে এটা হতোনা। এভাবে ক্ষোভ, হতাশা নেতাদের শুধু নয়, তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও রয়েছে। আওয়ামী লীগ বার বার বলছে, যারা দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিকভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বাস্তবে এর প্রতিফলন খুব কম। চট্টগ্রামে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নেতারা এখন তৃণমূলকে এড়িয়ে চলেন। ক্ষমতার দোর্দন্ড প্রতাপে দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কতিপয় কথিত নেতা কিশোর গ্যাং লালনে অভ্যস্থ হয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছেন। যা দলের জন্য অশনি সংকেত।
সিটি নিউজ/জস
