সিটি নিউজঃ সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচন হয়ে গেল তৃতীয় ধাপের। দৃশ্যত এ নির্বাচন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। তৃতীয় ধাপে ৬৩ টি পৌরসভার মেয়রদের মধ্যে ১৪ জনই বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এরা নৌকা প্রতীকের বিরেুদ্ধে ভোটের লড়াইতে অংশ নিয়েছিলেন। এদের পৃষ্টপোষক ছিলেন স্থানীয় এমপিরা।
আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা এমপিদের অনুগত না হওয়ায় তারা “বিদ্রোহী প্রার্থী” দাঁড় করিয়েছেন। তাদের পেছনে অর্থব্যয় করেছেন। তাদের জেতানোর জন্য পুলিশ, প্রশাসন এবং নিজস্ব কর্মীদের ব্যবহার করেছেন। আওয়ামী লীগের এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদের বলা হচ্ছে এমপি লীগের প্রার্থী।
ভোট শেষে হিসেবে নিকেষ করে দেখা যায়, তৃতীয় ধাপের পৌর নির্বাচনে আসলে আওয়ামী লীগ জিতেনি, জিতেছে এমপি লীগের প্রার্থীরা। এভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের চিত্র ছিল প্রায় একই।
এবার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রস্তাব এসেছিল তৃণমূল থেকে। কেন্দ্রে যে নাম এসেছে, সেখানে তাদের অনুগত ও একান্ত ব্যক্তিগতদের নাম যেন থাকে সে জন্য তদবির ও ছুটাছুটিও করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নাম বাতিল করা হয়। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে অনেক পৌরসভার আজ্ঞাবহ ব্যক্তি মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। এমপিদের অনুগত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন শতকরা ৮০ ভাগ।
শুধু পৌরসভা নয়, উপজেলা নির্বাচনে একই চিত্র। এমপিরা জেলায় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ রাখছেন। তাদের পছন্দের বাইরে যারা যাচ্ছেন, তাদের হয় নিস্ত্রিয় করা হচ্ছে, না হয় হয়রানীর মধ্যে রাখা হচ্ছে। বেশীরভাগ এমপিই তার নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগের বাইরে নিজস্ব প্যারালাল সংগঠন করছেন। এই সংগঠনের নাম হচ্ছে এমপিলীগ। আর এমপিলীগের কাছে অসহায় হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
সিটি নিউজ/জস
