আনোয়ারায় চাঁদাবাজিঃ সিএমপির ৬ পুলিশ সদস্য কারাগারে

0

সিটি নিউজঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)’র ৬ পুলিশ সদস্যকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আনোয়ারা উপজেলার পূর্ব বৈরাগ এলাকায় আব্দুল মান্নান নামের এক ব্যক্তিকে গভীর রাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বলে তোমার নামে ডিবিতে মামলা আছে। নাম কাটতে লাগবে ১০ লাখ টাকা। পরে দরকষাকষিতে  ১ লাখ ৮০ হাজার ৫শ টাকা করে তারা। পরে টাকা আদায়ের অভিযোগে আনোয়ারা থানায় মামলা করেন আব্দুল মান্নান। মামলার সত্যতা পায় পুলিশ। পরে সিএমপির ৬ পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এবং তাদেরকে সাময়িক বহিস্কারও করা হয়।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্রায হলো, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) এসএএফ শাখায় কর্মরত কনস্টেবল মো. মাসুদ, মো. আব্দুল নবী, এসকান্দর হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. শাকিল খান ও মোর্শেদ বিল্লাহ। তাদের মধ্যে মোর্শেদ বিল্লাহকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীরের বডিগার্ড হিসেবেও দেখা গেছে বিগত সময়ে।

গতকাল রবিবার উক্ত ৬ পুলিশ সদস্যকে নগরীর এ কে খান এলাকা থেকে আনোয়ারা থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ দল গ্রেপ্তার করে। একইদিন তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগের আব্দুল মান্নান গতকাল রবিবার আনোয়ারা থানায় যে মামলাটি করেছেন, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ২ টার দিকে চারটি মোটরসাইকেল নিয়ে ৮ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে যায় এবং ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তাকে তুলে নেয়।

এরপর পটিয়ার ভেল্লাপাড়া সেতুর পূর্ব পাশে কৈয়গ্রাম রাস্তার মাথার একটি দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর অভিযুক্তরা আব্দুল মান্নানকে জানায়, তার নামে ডিবিতে অভিযোগ আছে। অভিযোগ থেকে নাম কাটাতে হলে ১০ লাখ টাকা লাগবে। এ সময় আত্মীয়-স্বজনকে ফোন দিয়ে টাকা এনে দিতে বলা হয় মান্নানকে।

দর কষাকষির পর অবশেষে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫০০ টাকা এনে দিলে ভোর ৫টার দিকে মান্নানকে ছেড়ে দিয়ে পটিয়ার দিকে চলে যায় অভিযুক্তরা। উক্ত ছয়জনের মধ্যে একজনের জ্যাকেটে ডিবি লেখা ছিল।

বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টাকা আদায়ের ঘটনায় কনস্টেবল মো. মাসুদ নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী আব্দুল মান্নান।

এব্যাপারে সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‌আনোয়ারায় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন পুলিশ পরিচয়ে তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকজন চাঁদা নিয়েছিল। তিনি আনোয়ারা থানায় এরকম একটি অভিযোগ করলে আনোয়ারা থানা পুলিশের তদন্তে পুলিশ লাইন্সের ৬ সদস্যের নাম ‍উঠে আসে। বিষয়টি আমরাও তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাই। পরে আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে তাদেরকে হস্তান্তর করি। তাদেরকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.