সীতাকুন্ডে আওয়ামী লীগের রাজনীতি কোন্দলের – বিমল চন্দ নাথ

0

আলী আদনান   :   বিমল চন্দ্র নাথ। মেধা ও কর্মকে পুঁজি করে তৃনমুল পর্যায় থেকে উঠে আসা সফল ব্যক্তিত্ব। সীতাকুন্ডের ছোট দারোগাহাট সংলগ্ন পশ্চিম লালানগর গ্রামে জন্ম নেওয়া বিমল চন্দ্র নাথ পড়াশোনা করেছেন স্থানীয় জাফর নগর উচ্চ বিদ্যালয়, নিজামপুর কলেজ ও পরবর্তীতে ইসলামী ডিগ্রী কলেজে। বীমা কর্মী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে পরে কিছুদিন একটি বেসরকারী সেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ করেন। কিন্তু প্রতিষ্টিত হয়ে যান আইনজীবির সহকারী হিসেবে। বর্তমানে তিনি ’চিটাগাং এড. ক্লাক এসোসিয়েশন, কোর্ট হিল, চট্টগ্রাম এর নির্বাচিত সভাপতি। এ ছাড়াও স্কীম মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বারৈয়াঢালা  মেলা উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব, সীতাকুন্ড উপজেলা মেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য, সীতাকুন্ড উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী বিমল চন্দ্র নাথ সীতাকুন্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আওয়ামী যুবলীগ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আজকের সুর্যোদয় কে একান্ত সাক্ষাতকারে বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, ’শিল্পনগরী খ্যাত সীতাকুন্ড বর্তমানে সমস্যায় জর্জরিত। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের সুযোগ নিয়ে জামায়াত-বিএনপির অনেক সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে ঘুরে বেডাচ্ছে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে পরে তারা অনেক নৈরাজ্যবাদী তান্ডব চালালে ও অনেকে এখনো গ্রেফতার হয়নি। অনেক মামলার এখন পর্যন্ত চার্জশিট দেওয়া হয়নি। অথচ আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীকে শুধুমাত্র অন্ত কোন্দলের রোষানলে পড়ে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হচ্ছে। অনেক নিরপরাধ নেতাকর্মীর নামে এখনো ১৫-২০টি বা তারও বেশি মামলা। খোজ নিলে দেখা যাবে, এরা দলের দুর্দিনে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন। অথচ এখন দলে প্রতিপক্ষের নেতার রোষানলে পড়ে জেল খাটছে।

বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, সীতাকুন্ড থানায় পুলিশের গ্রেফতার বানিজ্য এখন ভায়াবহ। সন্দেহভাজন আসামীর অজুহাতে প্রতিদিন নিরপরাধ অনেক যুবক গ্রেফতার হয়ে থাকে। পরে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। টাকা দিতে না পারলে মিথ্যা মামলায় তাদের চালান দেওয়া হয় কোর্টে। এসব যুবকদের মা-বোনের কান্নায় সীতাকুন্ডের আকাশ বাতাস এখন ভারী। সমাজ সচেতন সংগঠক হিসেবে খ্যাত, বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, সীতাকুন্ডের সন্তানরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন জায়গায় মেধার সাক্ষর রাখছে। কিন্তু বর্তমানে সীতাকুন্ডে মাদক সম্প্রাজ্য, ফেন্সিডিল, ইয়াবা ও স্থানীয়ভাবে তৈরী বাংলা মদ অনেক যুবকের ভবিষ্যত কে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, অনেক জনপ্রতিনিধি নিজের আর্থিক স্বার্থে মাদক ব্যবসাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের কোন উপায় আছে কিনা জানতে চাইলে, বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, রাজনৈতিক সুশাসন প্রতিষ্টিত হলেই এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তর সম্ভব। রাজনীতি তে হানাহানি থাকলে তার প্রভাব প্রশাসনে ও জনজীবনে পড়বেই। সীতাকুন্ড উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদ এর সহ-সভাপতি বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, এশিয়া মহাদেশে আমাদের সীতাকুন্ড হিন্দুদের তীর্থস্থান হিসেবে প্রশংসিত, প্রতিবছর শিব চতুর্দশী মেলাকে কেন্দ্র করে এখানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আসেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা তাদের উপযুক্ত সম্মান দিতে পারিনা।

চন্দ্রনাথ ধাঁমে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। সাড়ে তিন কিলোমিটার উচু এ পাহাড়ের অনেক সিঁড়ি ভাঙ্গা। প্রায় প্রতিবছর মেলার সময় এখানে দুর্ঘটনা ঘটে। দুর থেকে আসা যাত্রীদের অবকাশ যাপনের জন্য এখানে কোন হোটেল মোটেল নেই। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খুব খারাপ। বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে আসা তীর্থ যাত্রীরা প্রায়ই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। অবশ্য ইতিমধ্যে চন্দ্রনাথ ধামে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়েছে। তবে সেখানে পুলিশের সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিত। দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুন্ডের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে সোচ্চার থাকা বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, সীতাকুন্ডকে জাতীয় তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষনা দেওয়ার দাবী দীর্ঘদিনের।

সাবেক সাংসদ এবিএম আবুল কাশেম এ দাবী নিয়ে যথেষ্ট দৌড়ঝাপ করেছেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি শারিরীক ভাবে অসুস্থ। এ উদ্যোগটিও কোন এক অদৃশ্য কারনে বন্ধ। আমরা চাই আমাদের এ দাবী পুরন করা হোক। সীতাকুন্ড কে তীর্থস্থান হিসেবে পরিকল্পিত ভাবে সাজাতে পারলে প্রতিবছর এখান থেকে প্রচুর টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব। সীতাকুন্ডের অনেকগুলো পুজা মন্ডপের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে পশ্চিম লালানগর ক্ষেত্রবল বাড়ি মন্দির, বারৈগ্রাম বারৈপাড়া দুর্গা মন্দির, বগুলাবাজার পুজা মন্ডপ, উত্তর জলদাশপাড়া পুজা মন্ডপ, দক্ষিণ জলদাশপাড়া পুজা মন্ডপ, ফৌজদারহার জলদাশপাড়া,পুজা মন্ডপ, লতিফপুর পুজা মন্ডপ সহ অনেক গুলো মন্ডপে সংস্কারের জন্য আর্থিক বরাদ্দ দরকার।

আমরা এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি আশা করছি। বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, সীতাকুন্ডের মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতণায় বিশ্বাস করে। হিন্দু মুসলমান এখানে এক পরিবারের সদস্যের মত বসবাস করে। ২০১৩-১৪ সালে বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, নোয়াখালী সহ বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নির্যাতিত লাঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু আমাদের সীতাকুন্ডতে কোন হিন্দুর গায়ে আঁচড় লাগতে পারেনি। এ ব্যাপারে সীতাকুন্ড পৌর মেয়র নায়েক (অব:) শফিউল আলম এর দক্ষ ভুমিকা প্রশংসা পাওয়ার দাবীদার। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে হিন্দু মুসলমান সবার সমান অংশীদারিত্ব ছিল। তাই এ দেশ আমাদের সবার।

কিছু কিছু নিচুমনের লোক আছে। যারা আমাদের ইন্ডিয়ার দালাল বলে গালি দেয়। এটা অপরাধ। আমি এ ধরনের মানসিকতাকে নিন্দা জানাই। তরুন সমাজ সেব মিমল চন্দ্র নাথ বলেন, রাজনীতি সমাজসেবা ও সংগঠনের মধ্য দিয়ে চিরকাল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। স্বীকৃতি পেলাম কি পেলাম না, মুল্যায়ন হলো কি হল না, তাতে কিছু যায় আসে না।

বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বিমল চন্দ্র নাথ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার ভুমিকা অবিস্মরনীয়। তিনি মেধা ও কর্মের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে অনেক উচুতে নিয়ে গেছেন। এ যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্টার লক্ষ্যে লেখনির মাধ্যমে গেদুচাচা খোন্দকার মোজাম্মেল হক ও সৎ সাহসী সাংবাদিক জুবায়ের সিদ্দিকী কাজ করে যাচ্ছেন। আপনাদের এই ব্যতিক্রমী সাংবাদিকতা চিরজীবি হোক।

– জনশক্তি ও কর্মসংস্থান সম্পাদক , চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.