প্রেস বিজ্ঞপ্তি : চট্টগ্রাম মহানগরীতে গত কয়েক দিন যাবত গ্যাসের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। গত সপ্তাহে জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে ২৯০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হলেও ৪ নভেম্বর সরবরাহ করা হয় মাত্র ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে আবাসিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকরা চরম দুর্দশার শিকার হচ্ছেন। এ প্রেক্ষিতে সংকট নিরসনে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধিতে ০৫ নভেম্বর এক পত্রের মাধ্যমে জ্বালানী উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানের প্রতি আহবান জানান দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি মাহবুবুল আলম।
পত্রে তিনি বলেন- চট্টগ্রাম মহানগরীর গ্যাস নির্ভর হাজার হাজার বাসা বাড়ীতে গ্যাসের অভাবে রান্না করা যাচ্ছে না। রোস্তারা এবং খাবারের দোকানগুলোতেও খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিশু, বয়স্ক নারী-পুরুষ, ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী সবচেয়ে বেশী সমস্যার সম্মুখীন। বিরাজমান গ্যাস সংকটহেতু শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদেশী ক্রেতাদের আদেশ মোতাবেক পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে রাউজান তাপ বিদ্যুৎ ও শিকলবাহা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। ফলে সার্বিক নাগরিক জীবনে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহবুবুল আলম।
চেম্বার সভাপতি আরো বলেন- চট্টগ্রামে বছরের পর বছর চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক গ্যাস সরবরাহের কারণে শিল্পায়ন বন্ধ রয়েছে। চলমান শিল্প কারখানাগুলোর অবস্থাও নাজুক। রেশনিং এর মাধ্যমে কেজিডিসিএল কোন প্রকারে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আসছিল। এ অবস্থায় হঠাৎ করে গ্যাসের সরবরাহ অত্যধিক কমে যাওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরের আবাসিক এবং শিল্পসহ সর্বক্ষেত্রে চরম অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে এতদঞ্চলের গ্যাস সংকটের বিষয়টি সুরাহাকল্পে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবরে বার বার পত্র দেয়ার পরও পরিস্থিতির আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি যা আপনিও সম্যক অবহিত আছেন।
দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরীর প্রায় ৫০ লক্ষেরও অধিক অধিবাসী এবং শিল্পোদ্যোক্তাদের নাজুক অবস্থা বিবেচনাপূর্বক জরুরী ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিড হতে চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নির্দেশদানে উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও পেট্রো বাংলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত উদ্যোগ কামনা করা হয়।
