ফটিকছড়ি প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দুই ইউনিয়নকে নিয়ে গঠিত নাজিরহাট পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ ও নির্বাচনী জঠিলতা না কাটলেও দৌঁড়ঝাপ বেড়েছে প্রার্থীদের। নিজেদের মুখ সকলের কাছে তুলে ধরতে আগে-ভাগেই মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মেয়র-কাউন্সিলর প্রার্থীদের শুভেচ্ছা পোস্টার, ব্যানার শোভা পাচ্ছে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে। সামাজিক আচার-অনুষ্টানে যোগদানসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বর মাসে নির্বাচন উপযোগী ২৪৫ টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই নির্বাচন দিয়েই শুরু হতে পারে দলীয় মনোনয়নের ভিত্তিতে প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচন।
দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়টি আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা ইতিবাচক হিসাবে দেখলেও বিএনপি প্রাার্থীদের এ বিষয়ে ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচবক কোনো মন্তব্য নেই। তবে দুই দলের প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি মাথায় নিয়েই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও লবিং এ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
আগামী পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করা জন্য ইতোমধ্যেই প্রচার-প্রচারণা ও দলীয় লবিং অব্যাহত রেখেছেন সুয়াবিল ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবু তালেব চৌধুরী, উত্তর জেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মজিবুল হক চৌধুরী, দৌলতপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাংবাদিক জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ, উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য এ.কে জাহেদ চৌধুরী, সমাজসেবক আলী আজম ছাদেক সহ আরো অনেকে।
বিএনপিতে লবিং অব্যাহত রেখেছেন দৌলতপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান এস.এম সিরাজুদ্দৌল্লাহ, ছালামত উল্লাহ চৌধুরী, সুয়াবিল ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মো. শফিউল আলম শফি, বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন সহ আরো অনেকে। সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যেও চলছে ব্যাপক তোড়জোড়। ইতোমধ্যে পোষ্টার পেষ্টুন সাঁটিয়ে প্রার্থীতার ব্যাপারে আগাম ইঙ্গিত দিয়েছেন সুয়াবিল অংশে বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও আ.লীগ নেতা শামসুল আলম কোম্পানী, সুয়াবিল ইউনিয়ন মহিলা দলের আহবায়িকা ছলিমা আক্তার শিউলি, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম আবু, আ.লীগ নেতা সেলিম উদ্দিন, তরিক্বত নেতা কাজ্বী মাওলানা নেজাম উদ্দিন, যুবদল নেতা আমান উল্ল¬াহ আমান, বর্তমান নারী কাউন্সিলর আলমনারা তানিয়া সহ আরো অনেকে।
দৌলতপুর অংশে আ.লীগ নেতা সোলায়মান, পৌরসভার সম্মানিত কাউন্সিলর মু.আইয়ুব, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মু. ইউছুপ, এস.এম হেলাল উদ্দিন, বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ, যুবদল নেতা হাসান সহ আরো অনেকে তোড়জোড় চালাচ্ছেন।
মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ থেকে যে সব প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচনের ব্যাপরে প্রচারণায় আছেন তাদের মধ্যে থেকে সব দিক মিলিয়ে আমার অবস্থান অনেক ভালো। আমি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত; সেই হিসেবে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। ’
আ.লীগ নেতা মজিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্তই আমার সিন্ধান্ত। দল যদি চাই নির্বাচনে অংশগ্রহন করবো। আরেক মেয়র প্রার্থী আলী আজম ছাদেক বলেন, ‘নানা কারণে সুয়াবিল ও দৌলতপুর ইউ.পি’র নির্বাচন ঝুঁলে থাকায়; দীর্ঘদিন এ এলাকার মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত ছিল। সমস্ত জটিলতা অতিক্রম করে নাজিরহাট পৌরসভা বাস্তবায়িত হওয়ায় পৌর এলাকায় নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টির সম্ভাবনার পাশাপাশি উন্নয়নের পথ তরান্বিত হবে।
এবারের পৌরসভা নির্বাচন যেহেতু দলীয় প্রতীকে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সে ক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন পাওয়াটা প্রার্থীদের জন্য হবে একটা চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ স্থানীয় রাজনীতির আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বড় দুই দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে একাধিক বলয় রয়েছে। সেক্ষেত্রে অনেকেই চেষ্টা করবেন প্রভাব খাটিয়ে, অর্থ খরচ করে দলের মনোনয়ন ও বিজয় চিনিয়ে আনতে। উপজেলা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে দুই দলের অনেক নেতাই মনে করেন, দলের পক্ষ থেকে একক প্রাার্থী মনোনয়ন দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দেওয়াটাই দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
