সাকা-মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

0

ঢাকা অফিস :: মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

সাকা চৌধুরী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। আর মুজাহিদ ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল।আইজি (প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইফতেখার উদ্দিন জানান, শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয় তাদের দুজনকে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাকা চৌধুরীকে গোসল করানো হয়। এরপর খেতে দেওয়া হয়। তারপর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়েন তিনি। এরপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মসজিদের ইমাম মনির হোসেন তাকে তওবা পড়ান।

এদিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়। আইন ও রেওয়াজ অনুযায়ী তারও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করানো হয়।

অন্যদিকে রাত ১২টা ২৫ মিনিটে ২০ জন বিশেষ কারারক্ষী কারাগারে প্রবেশ করেন। এই ২০ জন ফাঁসির মঞ্চ ঘিরে অবস্থান নেন।

এরই মধ্যে চারটি অ্যাম্বুলেন্স কারাফটকে প্রস্তুত রাখা হয়। যার মধ্যে দুটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স। লাশ কড়া নিরাপত্তায় লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়।

এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন ফাঁসি কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের তত্ত্বাবধানে ফাঁসি কার্যকর করার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পর শনিবার প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন সাকা চৌধুরী ও আরেক আসামি আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ। তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন রাষ্ট্রপতি। এরপরই শুরু হয় ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের ত্রাস ছিলেন সাকা চৌধুরী। তার নেতৃত্বে বহু মানুষের প্রাণ নেওয়া হয়। আদালত তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে বলেছেন, ‘সাকা উদারতা পাওয়ার যোগ্য নয়।’
শেষ পর্যন্ত একাত্তরের ঘাতক সাকার জীবনাবসান হলো ফাঁসির রশিতে ঝুলে। এর মধ্য দিয়ে দেশ কলঙ্কমুক্তির আরেকটি অধ্যায়ের সমাপ্তি দেখল।

আলবদর কমান্ডার মুজাহিদের বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, ‘এ ধরনের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ পাওয়ার পর অপরাধী সর্বোচ্চ দণ্ড না পেলে তা হবে ন্যায়বিচারের পরিহাস।’

৬৮ বছর বয়সি মুজাহিদ একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হোতা। এই আলবদর নেতা পরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুদণ্ড রুখতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছে জামায়াত। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারেনি তারা।

সাকা ও মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্যে দিয়ে মানবতাবিরোধী চার অপরাধীর ফাঁসি কার্যকর করা হলো। এর আগে যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.