সিটিনিউজবিডি :: মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর আপিল আবেদনের ওপর রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখার আরজি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে আজ সোমবার রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
আসামিপক্ষের যুক্তি খণ্ডনের মধ্য দিয়ে এই আপিলের শুনানি শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এস এম শাহজাহান।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নিজামী যখন জামায়াতের তৎকালীন ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সভাপতি ছিলেন, তখনই আলবদর বাহিনী গঠিত হয়েছিল। তাঁর পরিকল্পনা, উসকানি ও সহযোগিতায় আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী নিধন করে।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় হিটলারের ভূমিকার উদাহরণ দিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, হিলটার নিজ হাতে কাউকে মেরেছেন—এমন কথা কেউ বলেননি। কিন্তু ইহুদি নিধনের মূল পরিকল্পনাকারী তিনি।
শুনানিতে নিজামীর সর্বোচ্চ সাজা বহাল রাখার আরজি জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
এর আগে গত বুধবার নিজামীর আইনজীবীরা তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল সেদিন শুনানির জন্য দাঁড়ালেও যুক্তি উপস্থাপন শুরুর আগেই শূনানি মুলতবি হয়ে যায়।
প্রসঙ্গত, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের এক মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই বছরের ২ আগস্ট এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনালের আদেশে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল-১ মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন নিজামীকে। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন তিনি। ছয় হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে মোট ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চেয়েছেন তিনি। তার পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড জয়নুল আবেদীন তুহিন এ আপিলটি দাখিল করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর আপিলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়।
নিজামীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে আটটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চারটিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। আর বাকি আটটি অভিযোগে তিনি খালাস পান।
