জামাল জাহেদ, কক্সবাজার প্রতিনিধি : বর্তমান মৌসূমে শীতের আগমন বার্তা জানান দিয়েছে সকলকে । শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে বাড়ছে পর্যটক । সেই সাথে বিজয় দিবসের ছুটিতে দেশের পর্যটন রাজধানী নামে পরিচিত কক্সবাজার পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠেছে। সমুদ্র সৈকত, বিপণী কেন্দ্রসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো পর্যটকদের কোলাহলে দারুণ প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠেছে। রাস্তাঘাটে সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম। ইতোমধ্যে শহরের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় সকল কক্ষ কাল শনিবার পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বিজয় দিবসের টানা ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়ে বাড়ছে হয়রানিও।
হোটেল মালিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি ডিসেম্বর মাসের শেষ পক্ষকাল পর্যটকদের আনাগোনায় বেশ জমজমাট থাকবে কক্সবাজার। ইতোমধ্যে শহরের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় সমস্ত কক্ষ ১৬ থেকে ১৯ ডিসেম্বর, ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বর ও ২৯ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগাম বুকিং হয়ে গেছে। এখন বাকী দিনগুলোতেও চলছে বুকিং।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির অর্থ সম্পাদক শফিকুর রহমান কোম্পানী জানান, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শেষে ছুটির দিনগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য দলে দলে হাজার হাজার পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন। তবে গত ৩/৪ বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ডিসেম্বর মাসে আশানুরূপ পর্যটক না আসলেও এ বছর আশাতীত সংখ্যক পর্যটক আসছেন।
তিনি জানান, এবারের বিজয় দিবসের ছুটিতে কক্সবাজারে লক্ষাধিক সংখ্যক পর্যটক এসেছেন। কক্সবাজার সৈকতের জীবন রক্ষাকারী সংস্থা রবি লাইফ গার্ডের কর্মী আবুল হোসেন জানান, অনেকেই হোটেলের সংস্থান করতে না পেরে সৈকতে ও ফুটপাতে জ্বালানী কাঠ জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) সভাপতি রেজাউল করিম জানান, এ মাসের শেষে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার। হোটেল-মোটেলে ঠাঁই নেই অবস্থা। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজসমূহের টিকেটও আগাম বুকিং হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশা করেন- এ মাসে কক্সবাজারে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক কক্সবাজারে বেড়াতে আসবেন। একই আশাবাদ ব্যক্ত করেন কক্সবাজার হোটেল-মোটেল জোন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নুরুল আবছার।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী জানান, এ মাসে পর্যটকে ভরপুর থাকবে কক্সবাজার- একথা মাথায় রেখে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ পর্যটকদের নি্নিদ্র নিরাপত্তা বিধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে কোন দূর্বৃত্ত অঘটন ঘটানোর সাহস না পায়।
এ বিভাগের আরও খবর
