ইবি বন্ধ ঘোষণা, হল ত্যাগের নির্দেশ

0

শিক্ষাঙ্গণ ডেস্ক :: ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সংঘর্ষের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। বিশ্ববিদালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বন্ধ ঘোষণার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার থেকে আগামী ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে।

প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. ইকবাল হোছাইন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘হল ছাড়ার এ নির্দেশ সম্বলিত নোটিশ স্ব স্ব হলে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। শীতকালীন ছুটি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ফের চালু হবে।’

ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসহ আবাসিক সব হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

এর আগে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সহ-সভাপতি গ্রুপের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের গুলি, ককটেল বিস্ফোরণ ও ইটপাটকেলে ১২ জন আহত হন।
আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যম্পাসে পরিস্থিতি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের জের ধরে শনিবার সকাল ১০টা থেকে ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান মিজু গ্রুপের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয় গ্রুপ তাদের শক্তি জানান দিতে বিপুল সংখ্যক বিহরাগত ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারী ও চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের আগ্নেয়াস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে।
তাদের মধ্যে সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের পক্ষে আর সহ-সভাপতি মিজু উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমানের পক্ষে অবস্থান নেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ ইবি ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান তুহিনের নেতৃত্বে মিজু গ্রুপের নেতাকর্মী ও বহিরাগত নামধারী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে উপাচার্যকে ‘ঘুষখোর’ ও ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করে মিছিল বের করে।

মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান গেট ঘুরে ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ইবি ভিসি বিরোধী ও ইবি ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে উস্কানীমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এতে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্টে অবস্থান করা সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এক পর্যায়ে মিজু গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের মিছিল নিয়ে ছাত্রলীগের টেন্টের উত্তর পাশে বিজ্ঞান ভবনের দিকে অবস্থান নেয়। আর সভাপতির পদত্যাগ ও তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিভিন্ন উস্কানীমূলক স্লোগান দিতে থাকে।

পরে নিয়ে সভাপতি ও সহ-সভাপতি গ্রুপের মধ্যে ইটপাটকেল ও ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় উভয় পক্ষ থেকে দুই রাউন্ড করে চার রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের এক পর্যায়ে মিজু গ্রুপের হালিম, আরাফাত ও বহিরাগত অস্ত্রধারী আশিকুর রহমান জাপান, বশির, হিটলার, টিটু তাদের আগ্নয়াস্ত্র বের করে লাঠি শোঠা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। সভাপতি গ্রুপ ধাওয়া খেয়ে পিছু হটে গিয়ে টেন্ট ছেড়ে ক্যাম্পাসের হল এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়।

এ সময় অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয় বলে মেডিকেল সেন্টার সূত্রে জানা গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে কারও নাম জানা যায়নি। আহতরা মেডিকেল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে দ্রুত চলে গেছেন। পরে মিজু গ্রুপের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যায়।

বর্তমানে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইবি ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা সকাল থেকে টেন্টে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। একপর্যায়ে কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী ও পুলিশ আমাদের ওপর অতর্কিত গুলি ছোঁড়ে। আমাদের নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিলে আমরা প্রতিবাদ করেছি।

সহ-সভাপতি গ্রুপের নেতৃত্বদানকারী হালিম বলেন, সভাপতি গ্রুপ থেকে প্রথমে আমাদের ওপর গুলি ছোঁড়া হয়। পরে আমরা তার জবাব দিয়েছি।

ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেছি। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবেশ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.