ঢাকা অফিস : দশম সংসদের বর্ষপূর্তিতে আজ ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে। আওয়ামী লীগকে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আর বিএনপিকে নয়াপল্টনে নিজ নিজ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে দুই দলকেই বেলা ২টা থেকে ৫টার মধ্যে এই সমাবেশ শেষ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।
গতকাল (৪জানুয়ারি) নিজের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির আড়ালে কেউ যদি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুয়ায়ী শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জননিরাপত্তার খাতিরে সব দলকেই সমানভাবে দেখব।
সমাবেশের জন্য ডিএমপি ছয়টি শর্ত দিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে। তা হলো- নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে, নির্ধারিত এলাকার বাইরে মাইক ব্যবহার করা যাবে না, সমাবেশ করতে গিয়ে রাস্তাঘাট আটকে যানজট তৈরি করা চলবে না, ফেস্টুন-ব্যানারের আড়ালে লাঠি বা কোনো ধরনের অস্ত্র বহন করা যাবে না, পুলিশের বেঁধে দেয়া চৌহদ্দির মধ্যেই সমাবেশ সীমিত রাখতে হবে এবং মিছিল করে সমাবেশে আসা যাবে না।
ডিএমপি কমিশনার জানান, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একই সময়ে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। পুলিশ ‘জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কাউকে সেখানে অনুমতি দেয়নি। পরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি যার যার দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চাওয়ায় পরিস্থিতি যাচাই করে পুলিশের পক্ষ থেকে সমাবেশের এই অনুমতি দেয়া হয় বলে জানান তিনি।
একই দিনে দুই দলের পাল্টাপাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির শঙ্কার মধ্যেই সিটি কর্পোরেশনের ছাড়পত্রও পেয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকন সোমবার দুপুরে নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিএনপিকে নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে হবে। আর আওয়ামী লীগ করবে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। তিনি বলেন, সড়কের ওপরে লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি করে- এ ধরনের সমাবেশ আমরা নিরুৎসাহিত করি। তবুও যেহেতু সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুটি রাজনৈতিক দল সভা আহ্বান করেছে, এতে করে একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য বিএনপির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ বিবেচনায় তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলো। আর আওয়ামী লীগকে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হলো।
মেয়র জানান, ঢাকা শহরে সড়কে সমাবেশের অনুমতি দেয় সিটি কর্পোরেশন। আর মাইক ব্যবহারের অনুমতি নিতে হয় মহানগর পুলিশের কাছ থেকে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে মুক্তাঙ্গনকে এ ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের ‘ভেন্যু’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিএনপি ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য শনিবার মহানগর পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি চায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ঘোষণা আসে। দিনটি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে উদযাপনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়াও ঢাকার ১৭টি স্থানে একযোগে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয় ক্ষমতাসীন দলটি। এরপর রোববার বিকেলে বিএনপির পক্ষ থেকে আরেকটি আবেদন করে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি না পেলে তারা নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। পরে ডিএমপি ও সিটি কর্পোরেশন দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ দলীয় কার্যালয়ের সামনে শর্তসাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেয়।
