মুসা বিন শমসের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত

0

গোলাম সরওয়ার  :        মুসা বিন শমসের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ।  শারীরিক অসুস্থতার  কারণ জানিয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দিয়ে বলেছেন, কাল বুধবার দুদকের তলবে তিনি হাজির হতে পারছেন না।
আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে চিকিৎসকের সনদ যুক্ত করে দুদককে চিঠি দিয়েছেন। চিঠির অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যান, সংস্থান দুই কমিশনার, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক, একই বিভাগের পরিচালক এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীকে দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই থেকে তিন মাস পেছানোর আবেদন করা হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন  সংবাদটি ।  বুধবার মুসা বিন শমসেরকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ নির্ধারিত ছিল। মুসা বিন শমসেরের আবেদনটি দুদকে জমা দেন তাঁর মালিকানাধীন জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো প্রাইভেট লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক এ টি এম মাহবুব মোর্শেদ। আবেদন দেওয়ার পর দুদক থেকে বের হওয়ার সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার (মুসা বিন শমসের) কমপক্ষে ২ থেকে ৩ মাস সময় পেছানোর আবেদন করেছেন।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার মৃত্যু আতঙ্কে থাকেন। ডাক্তারি ভাষায় যেটাকে ডেথ ফোবিয়া বলে। এ ছাড়া তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে।

তথ্যসূত্র মতে , মুসা বিন শমসেরকে এর আগে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও সুইস ব্যাংকের হিসাব নম্বর জানতে পারেনি দুদক। এবারের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য না জানালে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে মামলা করা হতে পারে। এ অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলার পর আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানও চলতে থাকবে। অনুসন্ধানে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে পরে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হবে। এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
২০১৪ সালের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীতে মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে ওই বছরের ৩ নভেম্বর তাঁর সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন তিনি। পরে দুদকের অনুসন্ধান দলটি মুসার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ড্যাটকোতে গিয়ে তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া ও পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.