চট্রগ্রাম অফিস : চট্টগ্রাম বন্দরে তরল কোকেন আটকের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় খানজাহান আলী গ্রুপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। র্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে পাঠালে আদালত কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
এডিসি প্রসিকিউশন মুক্তাকী ইবনু মিনান জানান, শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারের পর নুর মোহাম্মদকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি জানান, গ্রেফতারের পর র্যাব নুর মোহাম্মদকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য্য করে।
নগর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে তরল কোকেন সন্দেহে গত বছরের ৬ জুন রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি কনটেইনার সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২৭ জুন শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর জানায়, কেমিক্যাল পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
গত বছরের ২৮ জুন নগরীর বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওসমান গনি বাদি হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯ এর ১(খ) ধারায় জাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ ও সোহেলকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পরবর্তীতে চোরাচালানের ধারায় আরও একটি মামলা দায়ের হয়েছে। সেটি তদন্তাধীন আছে।
এরপর ১৯ নভেম্বর কোকেন আমদানির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) মো. কামরুজ্জামান চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তার হওয়া ছয়জনের সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত দু’জনসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়। তবে এজাহারে নাম থাকলেও কোকেনের চালানটি যে প্রতিষ্ঠানের নামে বন্দরে আনা হয়েছিল খানজাহান আলী লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নূর মোহাম্মদকে অভিযোপত্রে অব্যাহতি দেয়া হয়।
৭ ডিসেম্বর অভিযোগপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি হয়। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামির নাম না থাকায় অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেননি আদালত। ওইদিন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম রহমত আলী চাঞ্চল্যকর কোকেন আমদানি মামলার অভিযোগপত্র প্রত্যাখান করে তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কমকর্তাকে দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য র্যাবকে দায়িত্ব দেন। ৯ ডিসেম্বর আদালতের আদেশের কপি র্যাবের কাছে পৌঁছে।
অভিযোগপত্রে যাদের আসামি করা হয় তারা হলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বকুল মিয়া ও ফজলু মিয়া, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খানজাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেল, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার এ কে আজাদ, গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদি আলম, সিএন্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম গত বছরের ১৮ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।
