শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন

0

চট্রগ্রাম অফিস : শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে তিন পার্বত্য জেলায়– রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সোমবার সকালে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে হাজার হাজার পাহাড়ি নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে অংশ নেয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জুড়ে এ ধরনের কর্মসূচি এই প্রথম।

বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির দুজন সাংবাদিক জানান, পাহাড়ি জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শান্তিপূর্ণ দীর্ঘ মানবন্ধনের কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব মানববন্ধনের সমাবেশ থেকে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের পাশাপাশি পাহাড় থেকে অস্থায়ী সেনা ছাউনি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।তবে খাগড়াছড়ির চেংগী স্কোয়ারসহ দু-একটি স্থানে কর্মসূচি পালনে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দিয়েছে।পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি গত ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

জনসংহতি সমিতির দীপায়ন খীসা সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাহাড়ে কর্মসূচির সমর্থনে সারাদেশে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে অনুরূপ মানবন্ধন পালিত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ঢাকায় আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে শাহবাগে এবং জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উদ্যোগে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে পালিত হয় গণমানববন্ধন।’

তিনি বলেন, ‘ এছাড়া কক্সবাজার, পটুয়াখালি, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ দেশের অন্যত্র আদিবাসী ফোরামসহ বিভিন্ন সংগঠন আয়োজন করে মানববন্ধন। এসব কর্মসূচি থেকে সমতলের আদিবাসীর জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানানো হয়।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেন, সোমবার পাহাড়ের মানবন্ধনটি ছিলো স্মরণকালের বৃহত্তম।আদিবাসী ফোরামের প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা জানান, খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা ধুধুকছড়ি থেকে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার মায়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা ঘুমধুম পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনের সমাবেশ থেকে পাহাড়ি নেতারা বলেন, সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করছে। চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগই নেয়া হচ্ছে না। দাবি আদায়ে ভবিষ্যতে আরো কঠিন কর্মসূচি দেয়া হবে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.