‘বিশ্বস্ত বন্ধুর মত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান’

0

সিটিনিউজবিডি : পুলিশ বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের বর্ণনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জাঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশে জনবল বৃদ্ধিতে তাঁর সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের জনবল দেড় লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘গত ৭ বছরে আমরা পুলিশের অর্গানোগ্রামে ৭৩৯ ক্যাডার পোস্টসহ ৩২,০৩১টি পদ সৃষ্টি করেছি। এই বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যার হারের বিবেচনায় এই পুলিশ সদস্য সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়, আমরা আরো ৫০ হাজার পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৭৭টি ক্যাডার পোস্টসহ ১৩,৫৫৪টি পদে নিয়োগ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই অবশিষ্ট জনবল নিয়োগ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, আরো জনবল নিয়োগের পাশাপাশি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয় সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), টুরিস্ট পুলিশ, রিভার পুলিশ, স্পেশাল সিকিউরিটি এন্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন গঠন করেছে। পুলিশ এসব উদ্যোগের ফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর সরকার জাতির পিতার দেয়া ‘আইজিপি র‌্যাঙ্ক ব্যাজ’ পুনরায় চালু করেছে এবং সাব-ইন্সপেক্টর/সার্জেন্ট পদকে দ্বিতীয় শ্রেণীতে ও ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করেছে।’ কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের কার্যক্রম আরো গতি সঞ্চারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবল বৃদ্ধি ও বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যানবাহন এবং অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ চলমান থাকবে। সকল ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ধাপে ধাপে প্রতিটি খাত পুনর্গঠন করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের প্রায়োগিক বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশে জনগণের মাখাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৩১৪ ডলার এবং দারিদ্য হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমে ২২.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১২৩ শতাংশ বাড়িয়েছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি সদস্য এই সাফল্যের সমঅংশীদার। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ‘আমরা বিজয়ী জাতি, আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থাকবো না… আমরা ২০২১ সাল নাগাদ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।’ বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেন, এই এ্যাওয়ার্ড ভবিষ্যতে তাদের কাজে আরো উৎসাহিত করবে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গত এক বছরে পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও তাদের সার্ভিসের জন্য ৪টি ক্যাটাগরিতে ১০২ জন পুলিশ সদস্যের মাঝে বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) ও প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম) হস্তান্তর করেন। ১৯ জন সদস্য বিপিএম অ্যাওয়ার্ড এবং ৪০ জন পিপিএম এ্যাওয়ার্ড এবং ২৩ জন বিপিএম সার্ভিস এ্যাওয়ার্ড ও অপর ৪০ জন পিপিএম সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.