ঢাকা অফিস : অষ্টম বেতন কাঠামোর দাবিতে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের কর্মবিরতি শুরু করেছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন বেগম সমকালকে জানান, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কর্মবিরতিতে থাকবেন।
একই দাবিতে এর আগে গত ৪ ও ৫ জানুয়ারি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কর্মবিরতি পালন করেন কলেজ শিক্ষকরা। অষ্টম বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা। সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি না মানলে ৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি ক্লাস বর্জন করবেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা। এর পরও দাবি পূরণ না হলে ১৩ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাসের সঙ্গে পরীক্ষাও বর্জনের কর্মসূচি রয়েছে। তার পরও দাবি পূরণ না হলে ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার লাগাতার কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সমিতি।
জানা গেছে, অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পঞ্চম থেকে সরাসরি তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারের পঞ্চম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকরা পদোন্নতি পেয়ে চতুর্থ গ্রেডে অধ্যাপক হতেন। চতুর্থ গ্রেডের অধ্যাপকদের অর্ধেক সিলেকশন গ্রেড পেয়ে তৃতীয় গ্রেড পেতেন।
শিক্ষকদের অভিযোগ, নতুন বেতন কাঠামোয় সিলেকশন গ্রেড বাতিলের ফলে অধ্যাপকদের চতুর্থ গ্রেড থেকেই অবসরে যেতে হবে। ফলে মর্যাদা ছাড়াও বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা।
অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো ১ জুলাই থেকেই পঞ্চম গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপকদের অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে তৃতীয় গ্রেডে বেতন দিতে সরকারি আদেশ জারির দাবি জানিয়ে আসছে বিসিএস শিক্ষা সমিতি।
এ ছাড়া নায়েম মহাপরিচালক, এনসিটিবি চেয়ারম্যান, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং জেলা সদরের অনার্স ও মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষের পদকেও গ্রেড-১-এ উন্নীত এবং মাউশি, নায়েম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক; অনার্স/মাস্টার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ, শিক্ষা বোর্ডের সচিব এবং এনসিটিবির সদস্যদের পদকে দ্বিতীয় গ্রেডে উন্নীতের দাবি জানিয়েছে সমিতি।
বেতন কাঠামোর বৈষম্য দহৃর করার দাবিতে এর আগে লাগাতার কর্মবিরতিতে গিয়েছিলেন দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাসে নয় দিন পর ২০ জানুয়ারি শিক্ষকরা কর্মবিরতি স্থগিত করে ক্লাসে ফিরলে সচল হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
