লাইফস্টাইল : উচ্চমাত্রায় ফাইবার বা আঁশ রয়েছে যেসব খাবারে, সেসব খাবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও পরিপাকতন্ত্রের নানাভাবে উপকার করে থাকে একথা আগেই জানা গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে এসব খাবারের আরও কিছু উপকারের কথা। গবেষকরা জানিয়েছেন, আঁশযুক্ত খাবার ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে এএফপি। সম্প্রতি আমেরিকান থোরেসিক সোসাইটি এক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
এতে জানা গেছে, উচ্চমাত্রায় আঁশযুক্ত খাবার ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। মার্কিন এ সোসাইটি বিভিন্ন ধরনের বক্ষব্যাধী সম্পর্কে গবেষণা করে এবং এ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। সাম্প্রতিক এ গবেষণাটি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি জরিপের তথ্য ব্যবহৃত হয়েছে। জরিপটিতে ১৯২১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে ২০০৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাদের বয়স ছিল ৪০ থেকে ৭৯ বছর। এ জরিপের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা দৈনিক কতখানি ফলমূল, সবজি ও দানাদার খাবার খায়, তা জিজ্ঞাসা করা হয়।
এতে তারা যদি দৈনিক ১৭.৫ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করে তাহলে তাদের সবচেয়ে ওপরের শ্রেণিতে এবং ১০.৭৫ গ্রামের কম গ্রহণ করলে তাদের সবচেয়ে নিচের শ্রেণিতে রাখা হয়। এতে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণ সবজি খাওয়ার দলে পড়েছে সবচেয়ে বেশি মানুষ (৫৭১ জন)। অন্যদিকে সবচেয়ে কম সবজি খাওয়া মানুষের দলে পড়েছে ৩৬০ জন। এরপর তাদের পৃথক দুইবার শ্বাস পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের সুস্থতা মাপা হয়। সবজি ও ফলমূল খাওয়ার হার লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের ধূমপান, সামাজিক অবস্থা, ওজন ইত্যাদিও লিপিবদ্ধ করেন গবেষকরা।
এতে দেখা যায়, আঁশযুক্ত খাবার যারা খান তাদের ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যদের তুলনায় সুস্থ। এক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় আঁশ গ্রহণকারীদের ফুসফুস ৬৮.৩ শতাংশের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। অন্যদিকে যারা নিম্নমাত্রায় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করেন তাদের ফুসফুস ৫০.১ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে স্পষ্টত দেখা যায়, উচ্চমাত্রায় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণকারীদের ফুসফুস অন্যদের তুলনায় সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি। এক্ষেত্রে ঠিক কোন কারণে ফুসফুসের এ সুস্থতা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি গবেষকরা। ভবিষ্যতে আরও গবেষণায় এ বিষয়টি জানা যাবে বলে আশাবাদী তারা।
