নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্লোভ, নির্মোহ ও একজন সৎ সাংবাদিক নেতা ছিলেন আলতাফ মাহমুদ। তিনি ছিলেন সাংবাদিকদের অধিকার আদায় আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। যেখানেই সাংবাদিক সমাজ বিপদগ্রস্থ হয়েছে তিনি সেখানে নিজ উদ্যোগে ছুটে গেছেন। সামনের কাতারে দাড়িয়ে দাবি আদায় করেছেন। তাঁর শূণ্যতা দেশের সাংবাদিক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অপূরণীয় ক্ষতি। গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত শোক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এজাজ ইউসুফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএফইউজে সহ সভাপতি শহীদ উল আলম, প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সিইউজে সভাপতি এম নাসিরুল হক ও মোস্তাক আহমদ, প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সিইউজের সহ সভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ, সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএফইউজে নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, নাজিম উদ্দিন শ্যামল, নুরুল আমিন ও নির্মল চন্দ্র দাশ, বিএফইউজে যুগ্ন মহাসচিব তপন চক্রবত্তী, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক শামসুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. আলী, প্রতিনিধি ইউনিট প্রধান সমীর বড়–য়া, সুপ্রভাত ইউনিটের প্রধান স.ম. ইব্রাহীম, বিএফইউজে’র সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. ফারুক, কর্ণফুলির বার্তা সম্পাদক মামুনুর রশিদ প্রমূখ।
শোক সভার পুর্বে সাংবাদিক নেতা মরহুম আলতাফ মাহমুদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ পড়ানো হয়। মিলাদ মাহফিল পরিচালনা করেন সৈয়দ মাওলানা বেলাল শাহ খান আল কাদেরী।
শোক সভায় বক্তারা বলেন, আলতাফ মাহমুদ ছিলেন একজন গুণী সাংবাদিক ও সাহসি নেতা। সাংবাদিকদের রুটি-রুজি ও অধিকার আদায় আন্দোলনে সব সময় অগ্রণী ভুমিকা পালন করে এসেছেন। সাংবাদিকদের দাবি আদায়ে যখনই তিনি যে হাউজে গেছেন আপোষহীন ভুমিকার মাধ্যমে দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। যে কারণে ঢাকাসহ সারা দেশের সাংবাদিকদের মাঝে জনপ্রিয়তার শিখরে উঠতে পেরেছিলেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাধিকবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। দেশের সাংবাদিকদের শীর্ষ সংগঠন বিএফইউজে’র মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে। সর্বশেষ গত বিএফইউজে নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। সাহসী ও আপোষহীন ভূমিকার কারণে অনেকেই তাঁকে সমীহ করে চলতেন।
আলতাফ মাহমুদের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্কিত আখ্যায়িত করে বক্তারা আবেগ জড়িত কণ্ঠে বলেন, তাঁর গুরুতৎর অসুস্থতার বিষয়টি যথাসময়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দেশের বাইরে পাঠানো সম্ভব হতো। অসময়ে হয়তো তাঁকে এভাবে চলে যেত হতো না।
বক্তারা আলতাফ মাহমুদের পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার উদ্যোগ নেয়ার জন্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
