আইলানের মৃত্যু, দুই পাচারকারীর বিচার শুরু

0

আন্তর্জাতিক : সিরিয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও সংঘাতে এ পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের কারণে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তুতে পরিণত হয়েছে। এসব সংঘাত থেকে বাঁচতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। কিন্তু এভাবে সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ভয়ানক মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে কয়েক হাজার শরণার্থী। এমন পরিণতির শিকার হয়েছিল সিরিয়ার ছোট্ট শিশু আয়লান কুর্দি।

গত বছর সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ আয়লানের মৃত্যুর পর সাগরের তীরে তার পড়ে থাকার ছবিটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিশ্ব জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোর টনক নড়ে। তখনই শরণার্থী ইস্যু নিয়ে ভাবতে শুরু করে ইউরোপসহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো। আয়লানের মৃত্যুতে অবৈধভাবে পাচারকারী চক্রের ওপরও লাগাম টানার চেষ্টা শুরু হয়। সম্প্রতি তুরস্কে আয়লানের মৃত্যুর জন্য দায়ী দুই পাচারকারীর বিচার শুরু হয়েছে।

ওই দুই পাচারকারীর নাম মুয়াফাকা আলাবাস ও অসীম আলফ্রহাদ। তারা দু’জনই সিরীয় নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

আয়লানের বাবা নিজের পরিবারকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে চেয়েছিলেন। আর এ কারণেই তিনি পাচারকারীদের টাকা দিয়ে তার পরিবারকে নিয়ে একটি ছোট নৌকায় উঠেছিলেন। কিন্তু সাগরে তাদের নৌকা উল্টে যায় আর তিনি তার স্ত্রী সন্তানদের হারান। আয়লানের পরিবারের মত এমন অনেক পরিবার আছে যারা যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে পরিবারকে বাঁচাতে চান। আর তাদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে আর ছোট নৌকায় তুলে দিয়ে তাদেরকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর মুখে। বোদরাম দ্বীপে বৃহস্পতিবার আইলানের মৃত্যুর জন্য দায়ী দুই পাচারকারী মুয়াফাকা ও অসীমের বিচার শুরু হয়েছে। ওই বোদরাম সৈকতেই আয়লানের লাশ মুখ থুবরে পড়ে ছিল।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.