সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধের হুমকি

0

চট্টগ্রাম অফিস : বেতন স্কেল অবনমন করে সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত না করলে কর্মবিরতি পালনের মাধ্যম সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে স্টেশন মাস্টাররা।

রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ হুমকি দেন বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোখলেছুর রহমান।

মোখলেছুর রহমান বলেন, সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থগিত করে সম বেতন কাঠামোতে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি না করলে সারাদেশে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ করে দেব। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বন্ধ করবো। প্রশাসনের অত্যাচার নির্যাতনে পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩৪০টি স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ১৪০টি বন্ধ রয়েছে। বাকিগুলো বন্ধ করে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা নট এ মেটার।

বিষয়টি নিয়ে রেলের ডিজি, সচিব ও মন্ত্রীকে অবহিত করার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা যদি মনে করে মন্ত্রণালয়ে বসে রেল চালানো যায় তাহলে চালাক।

১৮৯০ সালে রেল প্রতিষ্ঠার পর থেকে রেল পরিচালনার জন্য কারো কাছে হাত পাততে হয়নি উল্লেখ করে মোখলেছুর রহমান বলেন, ৩৪০টি স্টেশনে দুইজন করে সহকারী স্টেশন মাস্টার নিয়োগ দিলে ৬৮০টি পদের প্রয়োজন। কিন্তু পদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৪টি। রেলের পরিবহন বিভাগে ২ হাজার ১১৩ পদের বিপরীতে ১ হাজার ৭৭ জন কর্মরত। ফলে বিপুল পরিমান সহকারী স্টেশন মাস্টার সংকটের কারণে ১৪০টি স্টেশন চালু করা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ৩০ অক্টোবর ২৭০জন সহকারী স্টেশন মাস্টার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতন রাখা হলেও বেতন স্কেল দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৭০০ টাকা। যা আগের নির্ধারিত স্কেল থেকে একধাপ নিচে।

কর্মচারীদের কর্মঘন্টা আইন অনুযায়ী একজন স্টেশন মাস্টার দিনে ৮ঘণ্টা কাজ করার কথা থাকলেও ১৬ থেকে ২৪ঘণ্টা এমনকি লাগাতার দিনের পর দিন কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

অতিরিক্ত কাজের জন্য ভাতা দেওয়া হয়না অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি দেবতোষ বড়ুয়া বলেন, স্টেশন মাস্টারদের সাপ্তাহিক কোন ছুটি দেওয়া হয়না। ঈদ, পুজা-পার্বনেও কাজ করতে হয়। বিশ্রামহীন কাজ করতে গিয়ে স্টেশন মাস্টাররা হাইপার টেনশান. হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করলেও নেই কোন ঝুঁকি ভাতা।

স্টেশন মাস্টারদের উপর মানসিন ও আর্থিক নির্যাতন করা হয় অভিযোগ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ পদে লোক নিয়োগ না দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

৫৬টি ট্রেন লিজ দিয়ে লোকসানের পাল্লা ভারি করা হচ্ছে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রেলের স্বার্থ বিবেচনা না করে হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যের জমি টোকেন মানির মাধ্যমে লিজ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এসএন ভট্টাচার্য, কার্যকরী সভাপতি মো.হোসেন মজুমদার, চট্টগ্রাম বিভাগের সভাপতি শওকত আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক মরণ চন্দ্র দাশ, সদস্য সচিব বেলায়েত হোসেন, লালমনিরহাট বিভাগের যুগ্ম সম্পাদক মো.জাহেদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.