ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলায় উদ্বেগ

0

ঢাকা : ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ সারাদেশে গত নয় দিনে ৬৯টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে। মানহানির মামলা হয়েছে ৪৯টি। মামলায় ৭২ হাজার ২৮০ কোটি ৫০ লাখ টাকার মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাদীরা। আদালতে করা এসব মামলার অধিকাংশেরই বাদী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী ও সমমনা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মামলার বাদী তালিকায় আছেন সরকারি আইনজীবীরাও।

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে বলেও সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। তবে আইনমন্ত্রী বলেছেন, ‘গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়, সমন জারি হয়েছে।’

২০১১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মানহানির অভিযোগে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার না করার বিধান রেখে বিল পাস করে জাতীয় সংসদ। এরপর থেকেই এ ধরনের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি না করে সমন জারি করে আসছিল আদালত।

এদিকে, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানির অভিযোগে দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএফজে। বুধবার সম্পাদক পরিষদ মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়েরে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে ‘এটা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী’।

মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরে উদ্বেগ জানিয়েছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিরা। এ নিয়ে তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। এর অবসান হওয়া দরকার। তাদের মতে, এ ধরনের মামলা উদ্দেশ্যমূলক। এ ধারা চলতে দেয়া হলে দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার লোক পাওয়া যাবে না।

কারো মতে, তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে সংবাদটি পরিবেশ করা ছিল বড় ধরনের ত্রুটি। সেটা স্বীকার করে নেয়ার পর ‘পাইকারিহারে’ মামলা দায়ের কাঙ্খিত নয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান এ বিষয়ে বলেন, ‘এই মামলার প্রভাব পড়বে বাক স্বাধীনতায়। এভাবে চলতে থাকলে কথা বলার কোনো লোক পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘যে প্রতিবেদন নিয়ে এতো হুলস্থুল তা ওইসময় প্রায় সব দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে কিন্ত মামলা হলো একজনের বিরুদ্ধে। ওই পত্রিকার বিরুদ্ধেও মামলা হলো না। এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত। এতে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা থাকবে না। স্বাধীন মত প্রকাশ বন্ধ হয়ে যাবে।’

বেসরকারি সংগঠন সশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এটা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। গণমাধ্যমের সুস্থ বিকাশ এতে হুমকির মুখে পড়বে।  ভুল হলে তা স্বীকার করাও ভুল কাজ বলে প্রতিষ্ঠিত হবে। আশা করব রাজনীতিকরা বিষয়টি নিয়ে ভাববেন এবং সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।’

রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযাগ সম্পর্কে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘তিনি সেরকম ভাবছেন না। কারণ যার বিরুদ্ধে সংবাদটি ছাপা হয়েছিল তিনি তখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। আর যার মানহানি হয়েছে তারই তো মামলা করা উচিৎ। মামলার উদ্দেশ্য সম্ভবত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, ‘ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে মামলা অনাকাঙ্খিত। এটা কাম্য নয়। তবে এটাও সত্য যে সংবাদটি  ছাপা হয়েছে-দায়িত্বশীল একজন সম্পাদক হিসেবে তার উচিৎ ছিল কি-না তা বিবেচনায় নিতে হবে।’

তিনি বলেন ‘যে কোনো সাংবাদিকের কাছে নিউজ আসলেই তা ছাপতে হবে এটা যদি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হয়ে থাকে এ বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে। নিউজটি তিনি যে সোর্স থেকেই পেয়ে থাকুক না কেন উচিৎ ছিল তা যাচাই বাচাই করা। সম্পাদক হিসেবে এর দায়ভার এড়াতে পারেন না তিনি।’

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.