যে কারণে ডিভোর্স হতে পারে

0

লাইফস্টাইল : এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪২ শতাংশ দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে বিচ্ছেদের মাধ্যমে। আর ৩৪ শতাংশ সংসার ২০তম বিবাহবার্ষিকী পূর্ণ হওয়ার আগেই ভেঙে যায়। আবার ওই পরিসংখ্যানে এও বলা হয়, ৮৭ শতাংশ দম্পতি দুজনের মধ্যে দারুণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন যেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিবাদই হয় না। সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং সেক্স থেরাপিস্ট পিটার স্যাডিংটন তুলে ধরেছেন ডিভোর্সের সাধারণ ৯টি কারণ।

১. অর্থনৈতিক সমস্যা : পয়সা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভিন্ন চিন্তাধার থাকলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন, একজন বেশি বেশি খরচ পছন্দ করেন। কিন্তু অপরজন সঘঞ্চয়ে বিশ্বাসী। এ ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে সমস্যা হবেই যা মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।

২. পরকীয়া : যদি স্বামী বা স্ত্রীর অন্য কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থাকে এবং তা জানাজানি হয়ে যায় তবে ভাঙন প্রায় অনিবার্য হয়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস নষ্ট হয় যার ওপর টিকে থাকে সম্পর্ক।

৩. সাবেকের নাক গলানো : স্বামী বা স্ত্রীর জীবনে সাবেক প্রেমিক-প্রেমিকা থাকতে পারেন। বিয়ের পর যদি সেই সাবেক নাক গলান বা ঝামেলা সৃষ্টি করেন তবে সংসারে অশান্তির সৃষ্টি হয়। দেখা দেয় বিচ্ছেদের সম্ভাবনা।

৪. পৃথক যৌন আকাঙ্ক্ষা : সবার ব্যক্তিগত যৌন আকাঙ্ক্ষা থাকে। স্বামী-স্ত্রীর যৌন চাহিদা ও অভিরুচিতে ব্যাপক পার্থক্য থাকতে পারে। এমনটা হলে সমস্যার উদয় ঘটে। ভাঙনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৫. আগের সংসারের সন্তান থাকলে : নিজের সন্তান এবং অন্যের সন্তানের বিষয়ে মানুষের আবেগ-অনুভূতি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে কাজ করে। তাই স্বামী বা স্ত্রীর আগের সংসারের সন্তান থাকলে তাকে নিয়ে টানাপড়েন শুরু হওয়া বিচিত্র নয়। আর এ থেকে বিচ্ছেদ ঘটার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।

৬. বাবা-মায়ের নিপীড়ন : সাধারণত স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমনটা ঘটে থাকে। শ্বশুরবাড়িতে মেয়েরা অনেক সময়ই স্বামীর বাবা-মায়ের নানা অসৌজন্যমূলক আচরণ বা নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকেন। এমন অভিভাবকরা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে তিক্ত করে দেন। ধীরে ধীরে তা বিচ্ছেদের দিকে এগিয়ে যায়।

৭. বিবাদ মেটানোর উপায় : কেউ যদি এমন এক পরিবেশে বড় হন যেখানে ঝগড়া-বিবাদ নিয়মিত ঘটনা, তবে নিজ সংসারেও এমন বিষয় সাধারণ মনে হবে। কিন্তু যিনি এতে অভ্যস্ত নন তার কাছে চরম অশান্তির বিষয় বলে মনে হবে। আসল কথা হলো, এসব ঝামেলা থাকবেই। কিন্তু তা মেটানোর ক্ষেত্রে আন্তরিকতাটাই বড় বিষয়। এতে স্বামী-স্ত্রীর আগ্রহ না থাকলে ভাঙন আসবে।

৮. যোগাযোগে পার্থক্য : একজন যদি তার সব চিন্তা-ভাবনা বা জীবনের ঘটনা অপরের সঙ্গে শেয়ার করেন, আর অন্যজন যদি ভিন্নতর হয়ে থাকেন তবেই বিপদ। এ ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। আর সেখান থেকেই বিচ্ছেদ।

৯. গোপনীয়তা যখন সমস্যা : এটি আরেকটি বড় সমস্যা। দাম্পত্য সম্পর্কে নিজেদের মধ্য খুব বেশি গোপনীয়তা থাকলে পরবর্তিতে সমস্যা আসবেই। সবারই কিছু না কিছু গোপন বিষয় থাকে। তবে এগুলো খুব বেশি হলে এবং কোনভাবে প্রকাশ পেলে আস্থা নষ্ট হয়। তখন মারাত্মক ঝামেলার সৃষ্টি হয়। সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.