পাঠ্যপুস্তকে উপেক্ষিত ভাষাশহীদরা

0

ফেনী : ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহীদ সালামের বাড়ির সামনে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র ৩ লাখ টাকার জন্য ভাষা শহীদ সালামের নামে নামকরণ হচ্ছে না। সালামের গ্রামটির নাম পরিবর্তন করে সালাম নগর করা হলেও স্কুলের নামটি লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই রয়ে গেছে।

১৯৫২ সালে যাঁরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই জন্মগ্রহণ করেছে বিভিন্ন জেলা শহরের কোনো না কোনো গ্রামে। অথচ পাঠ্যপুস্তকে তাঁদের খণ্ডিত পরিচয় ছাপা হয়েছে। গ্রাম, বাবা-মা তাদের নাম নেই। তৃতীয় শ্রেণির ‘আমার বাংলা’ বইতে ‘ভাষা শহীদদের কথা’ প্রবন্ধে শুধু জেলার নাম ছাপা হয়েছে। বাংলা বইয়ের ১৬ ও ১৭ নং পৃষ্ঠায় দেখা য়ায়, ‘আবুল বরকত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।’ ‘রফিকউদ্দিন আহমদ। বাড়ি মানিকগঞ্জে।’ আবদুল জব্বার। ময়মনসিংয়ের গফরগাঁওয়ে তাঁর বাড়ি।’ আরেক ভাষাশহীদের নাম আবদুস সালাম। ফেনী জেলায় তাঁর বাড়ি।’

পাঠ্যপুস্তক অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, ১ম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বইতে ভাষা শহীদদের প্রসঙ্গ নেই। চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৫৪ পৃষ্ঠায় ‘মোদের বাংলা ভাষা’ লেখক সুফিয়া কামাল। ৫ম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৭ পৃষ্ঠায় ‘ফেব্রুয়ারি গান’ লেখক লুৎফর রহমান রিটন। ৬ষ্ট শ্রেণির বাংলা বইয়ের ২৮ পৃষ্ঠায় ‘অমর একুশে’ লেখক রফিকুল ইসলাম। ৭ম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ৩১ পৃষ্ঠায় ‘লখার একুশে’ লেখক আবুবকর সিদ্দিক। ৮ম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ১৪ পৃষ্ঠায় ‘একুশের গান’ লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী’ এসব বইতে ভাষা দিবসের প্রসঙ্গ থাকলেও ভাষা শহীদদের পরিচয় নেই। নবম-দশম শ্রেণির বইতেও এ প্রসঙ্গে কোনো পাঠ্য নেই।

এ প্রসঙ্গে ভাষা ভাষা শহীদ সালামের ভাই আবদুল করিম জানান, ‘যারা বাংলা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের কিছু বিষয় পাঠ্যপুস্তকে ছাপা হলেও গ্রাম, বাড়ির কিংবা বাবা-মায়ের পরিচয় ছাপা হয়নি। দাগনভূঞা উপজেলার অনেক ছাত্র-ছাত্রী ভাষা শহীদ সালামের পরিচয় জানে না। অথচ দাগনভূঞা উপজেলায় ভাষাশহীদ আবদুস সালামের বাড়ি।’

ফেনীর ভাষাশহীদ সালাম পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক শাহাদাত হোসেন জানান, পাঠ্যপুস্তকে ভাষা শহীদরা উপেক্ষিত। মাধ্যমিক শ্রেণির বইগুলোতে ভাষা শহীদদের বিস্তারিত পরিচয় নেই। তৃতীয় শ্রেণির বইতে শুধু আছে আরেক ভাষা শহীদের বাড়ি ফেনী জেলায়। এটা খুবই লজ্জাজনক।

লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুর জাহান বেগম জানান, সালামের গ্রামটি লক্ষণপুর থেকে সালামনগর করা হলেও বাড়ি ও যাদুঘরের সামনে স্কুলটি নাম এখনও লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়ে গেছে। মাত্র ৩ লাখ টাকার জন্য নাম পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকল স্থানে চিঠি চালাচালি হয়েছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এছহাক জগলু জানান, ফেনী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দাগনভুঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নের সালাম নগরে ফেনী জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে শহীদ আবদুস সালামের পৈতৃক বাড়ির কাছে ভাষা শহীদ আবদুস সালাস  জাদুঘর ও গ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়। ২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি শহীদ আবদুস সালামের ছোট ভাইয়ের মেয়ে খাদিজা বেগমকে লাইব্রেরিয়ান, একই এলাকার শেখ ফরিদকে কেয়ারটেকার পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ছোট ফেনী নদী ভাঙনের কারণে যেকোনো সময় যাদুঘরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে ফেনীর জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান জানান, লক্ষণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামটি পরিবর্তন করে ভাষা শহীদ আবদুস সালাম নামকরণের জন্য

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.