কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না জেলা বিএনপি

0

সুনামগঞ্জ: কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করেই নিজেদের ইচ্ছেমতো কর্মসূচি চালিয়ে নিচ্ছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতারা। দলের গঠনতন্ত্রের বাইরে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী কার্য সম্পাদনেই ব্যস্ত তারা। দলের হাই কমান্ড নির্দেশিত নানা কর্মসূচিতে গ্রুপিং বিড়ম্বনায় সময় কাটছে তাদের।

এর প্রভাব পড়ছে নির্বাচনেও। পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমদিকে রাজপথে কেন্দ্র মনোনিত প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সবাইকে এক কাতারে দেখা গেলেও শেষ অবধি ভোটের ফলাফলে মিলেছে ঐক্যহীনতার প্রমাণ। ঘটেছে ভরাডুবি। ৪ পৌরসভার সবকটিতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে দলটির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলেও সুনামগঞ্জে দুই পক্ষে বিভক্ত বিএনপির কর্মকাণ্ড চলছে অনেকটাই খুড়িয়ে খুড়িয়ে।

দলটির এক পক্ষের নেতারা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো পালনে সফলতার প্রমাণ রাখতে বিপুল কর্মী সমর্থক নিয়ে রাজপথে স্লোগান ধরলেও অন্যপক্ষে বরাবরই দেখা মিলছে হাতেগোনা কয়েকজন নেতাকর্মীকে। প্রায় সবকটি উপজেলা ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে দলটির একাধিক গ্রুপ। তাদের মধ্যে রয়েছে একের প্রতি অনেক বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক।

পৌরসভা নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলায় বিএনপির ভরাডুবির অভিজ্ঞতার পরেও নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে এখনো দলবাজী নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইদানিং কালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির সভানেত্রী খালেদাজিয়ার পক্ষ থেকে সারাদেশে বিএনপির সকল সাংগঠনিক সম্মেলন সংক্রান্ত কার্যক্রমের উপর স্থগিতাদেশ থাকলেও সুনামগঞ্জে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলয়ের নেতাকর্মীদের সময় কাটছে কাউন্সিলকে ঘিরে। ইতিমধ্যে তারা কেন্দ্রীয় নির্দেশ উপেক্ষা করেই জেলার তাহিরপুর উপজেলায় বিএনপির কাউন্সিল সম্পন্ন করেছেন। গঠন করেছেন উপজেলা বিএনপির কমিটি।

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির ফজলুল হক আছপিয়া বলয়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শহরে অনেকটা দাপট খাটিয়ে চললেও এ কাউন্সিলে দেখা মেলেনি তাদের কোনো কর্মী-সমর্থকের।

শনিবার দুপুরে তাহিরপুর উপজেলায় বিএনপির এ কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম। এতে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বাক নাছির উদ্দিন চৌধুরী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান চৌধুরী, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, তাহিরপুর উপজেলা বিএনপিডর সাবেক সভাপতি আনিসুল হক প্রমুখ।

কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও দলের কর্মসূচির ব্যাপারে জেলা বিএনপি ও অংগ সংগঠনের নেতারা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন‘ ‘আমরা আমাদের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচিগুলো রাজপথে থেকেই পালন করছি। দলের নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ি আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

তিনি গ্রুপিংয়ের বিষয়টি টেনে বলেন, ‘জেলা বিএনপির নাছির উদ্দিন সমর্থকদের কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না। আমরা দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সয়ং দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা ভঙ্গ করে নাছির উদ্দিনের লোকজন কাউন্সিল করেছেন। তারা দলের হাইকমান্ডের নির্দেশের কোনো তোয়াক্কাই করেননি। এটা দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ। তারা সব সময় দলের সঙ্গে বেঈমানি করে চলছেন। নেত্রীর নির্দেশনাকে তারা আমলেই নেয়নি। এরা ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থি ছিল। তাদের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ বলেই আমি মনে করি।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, ‘নাছির উদ্দিন চৌধুরীর লোকজন দীর্ঘদিন ধরেই দলকে দুর্বল করার জন্য কাজ করছেন। তারা দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তি তৈরি করে রাখতেই কাজ করেন। সম্প্রতি দলের সভানেত্রী সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল ধরনের সাংগঠনিক সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কিন্তু এ নির্দেশনা না মেনেই তারা জেলায় কাউন্সিল করেছেন, কমিটি গঠন করছেন, দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন। আমাদের দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অবগত করা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, ‘আমরা তাহিরপুর উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করেছি। আমাদের কাছে সম্মেলন স্থগিত করার কোনো লিখিত নির্দেশনা আসেনি। মৌখিকভাবেও কেন্দ্র থেকে আমাদের এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই দলীয় কর্মসূচিগুলো পালন করছি।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সম্মেলন স্থগিত করার কোনো নির্দেশ দেয়া হয়নি বরং এগুলো শিথিল করা হয়েছিলো। আমাদের সম্মেলনের তারিখ আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। আমরা সম্মেলন করার মাধ্যমে দলকে আরো ঐক্যবদ্ধ করেছি বলে মনে করি। আমরা রাজপথে থেকেই দলের কর্মসূচি পালন করি। আমরা একসাথে কাজ করতে চাই কিন্তু কিছু নেতাকর্মীরা অযথাই দলে কোন্দল সৃষ্টি করতে চায়।’

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় বিএনপি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল জেলায় তৃণমূল পুনর্গঠন কার্যক্রম (কাউন্সিল) স্থগিত ঘোষণা করার পর শনিবার তাহিরপুরে আয়োজিত উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে নুরুল ইসলামকে সভাপতি ও রুহুল আমিনকে সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে জেলাজুড়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.