এম আনোয়ার হোসেন, মিরসরাই: বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় একটি ইউনিয়নের নাম ইছাখালী। উপজেলার সবচেয়ে বড় এই ইউনিয়নের পশ্চিমাংশে জেগে উঠে হাজার হাজার একর চর। সেই চরে আজ গড়ে তোলা হচ্ছে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের। বিশেষ অর্থনৈতিক জোন (স্পেশাল ইকোনোমিক জোন) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরুতেই পাল্টাতে শুরু করেছে ইছাখালীর দৃশ্যপট।
কিছুদিন পূর্বেও যেখানে গরু, মহিষ ও ভেড়ার ছিল অবাধ বিচরণ, ছিল জনমানবশূন্য এলাকা সেখানে এখন বেড়ছে কোলাহল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শোনা যায় স্কেভেটর আর ড্রাম ট্রাকের আওয়াজ। শ্রমিকদেরও কর্মব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে সেখানে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারী (পিপিপি) ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা পেতে যাওয়া দেশের সর্ববৃহৎ শিল্প জোনের কারণে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়ছে। আগামী ১৫ বছরে যেখানে কর্মসংস্থান হবে ৩০ লাখ মানুষের।
বর্তমান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে সাগর পাড়ের ধু ধু চর এখন পরিণত হতে যাচ্ছে দেশের বৃহৎ শিল্প নগরীতে।আজ রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০ টার সময় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্র থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধন উপলক্ষ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গৃহায়নও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ারমোশাররফ হোসেন এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভায় বর্ধিত সভা করা হয়েছে অনুষ্ঠানে প্রায় লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে। সরেজমিন দেখা যায়,মিরসরাই উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরত্ব এবং চট্টগ্রাম নগরী থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরত্বের ইছাখালীর পীরের চর, সাধুর চর, শিল্প চর এবং চর মোশাররফে পরিকল্পিত এই শিল্প শহরটির কাজ চলছে। ৫৫০ একর জমিতে এখন চলছে ভূমি উন্নয়ন, এলাকায় যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ, সুপেয় পানির সরবরাহ ও বাঁধ নির্মাণের কাজ। বাঁধ নির্মাণের কাজে ১৫ থেকে ২০ টি স্কেভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মঘাদিয়া থেকে প্রকল্প এলাকায় যাওয়ার জন্য ৬ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের কাজও চলছে জোরেশোরে। এছাড়া চর জেগে ওঠার কারণে সেখানকার জমি অনেক নিচু। তাই ভূমি উঁচু করতে এখন সেখানে ফেলা হচ্ছে মাটি। দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রতিদিন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে ছুটে যাচ্ছে। অবহেলিত সমুদ্র চরে যেন স্বপ্নদুয়ার খুলে গেছে।যোগাযোগ ব্যবস্থা : ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড়তাকিয়া বাজার থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে সমুদ্র তীরে শিল্পজোনটির অবস্থান। এ সড়কটি বেয়ে পশ্চিম দিকে গেলেই মোড়ে মোড়ে চোখে পড়বে এ্যারো চিহ্নিত ইকোনোমিক জোনের সাইনবোর্ড। আঁকাবাকা সড়ক বেয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলে পোঁছার আগেই উন্নয়নের চিত্র টের পাওয়া যায়। ফসলি জমির বুক চিড়ে বয়ে যাওয়া পিচঢালা সড়কের দুই পাশেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। বুঝাই যায়, ইকোনোমিক জোনের কারণেই এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গভর্নিং বোর্ডের সভায় মিরসরাইয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখানে মোট ৭ হাজার একর জমির ওপর গড়ে উঠবে অর্থনৈতিক অঞ্চল। সরকারের ভরাটকৃত জমিতে প্লট নির্মাণ, সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ গ্যাস ও বর্জ্য নিরসনের ব্যবস্থা করবে ডেভেলপার। ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দরপত্রে অংশ নিয়ে যে প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হবে তারা ওই কাজের জন্য বিবেচিত হবে। ৫০ বছরের জন্য সরকারের কাছ থেকে জমি লীজ নেবে ডেভেলপার। জমি লীজ নেওয়ারপর ওই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশী-বিদেশী শিল্পোদ্যোক্তা আনবে নির্বাচিত ডেভেলপার। প্রাথমিকভাবে ৫৫০ একর জমির ওপর অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যে তিনটি টেন্ডারের মাধ্যমে সেখানে যোগাযোগের জন্য পাকা সড়ক নির্মাণ, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যাতে পানির কারণে ইকোনমিক জোন ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সে জন্য চলছে বাঁধ নির্মাণের কাজ। বাঁধে থাকছে স্লুইস গেট কাম সেতু। এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩শ’ ১ টাকা। এছাড়া অর্থনৈতিক জোনের অধিভুক্ত জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ শুরু হয়েছে। ২২ কোটি ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ওই মাটি ফেলা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক, ডিএফআইডি ও সরকারী অর্থায়নে এসব কাজ করছে মেসার্স আতাউর রহমান খান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই কাজের জন্য সর্বমোট ৭ মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে মঘাদিয়া থেকে ইছাখালী সিডিএসপি বাঁধ পর্যন্ত সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১২ কোটি টাকা। সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নিয়াজ ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনে ১৫ হাজার একর খাস জমিতে ৫০ টি উপ-অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বেজার। ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৩৯০ একর বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাকি ৯ হাজার একর জমি আগামী ২ বছরের মধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তর করা ৬ হাজার ৩৯০ একর জমির মধ্যে পীরের চরের ১৩৯০ দশমিক ৩১৬ একর, সাধুর চরের ১৬৪৪ দশমিক ১০৩৯ একর, শিল্প চরের ১৮৫২ দশমিক ৫৩৮৫ একর এবং চর মোশাররফের ১৫০৪ দশমিক ২৯৩০ একর জমি সর্বমোট ৬ হাজার ৩৯০ একর জমি প্রথম ধাপের কর্মপরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে মিরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ৩০ হাজার একর জায়গাকে অর্থনৈতিক জোনে মিলিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের পশ্চিমে জেগে উঠা নাছরিন চরকে খুঁটির বাইরে রাখা হয়েছে। যেটি ফেনীর অর্থনৈতিক জোনের আওতায় রেখে মিরসরাই অর্থনৈতিক জোনের সাথে মিলিত করা হবে। জানা যায়, তৈরি পোশাক ও পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট শিল্প, মোটরবাইক নির্মাণ ও অটো মোবাইল পার্টস, স্টিলসহ মেশিনারিজ নির্মাণের লক্ষ্যে মোট ১ হাজার ২২২ টি কারখানা স্থাপন করা হবে ইছাখালীর চরে। এছাড়াও পুরো শিল্পজোনে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ আবাসিক এলাকা, সমুদ্রবন্দর, কম্পোজিট প্ল্যান্ট, আইটি পার্ক, ট্যুরিজম পার্ক, বিকল্প পোর্ট কানেকটিং সড়ক, রেললাইন নির্মাণ, ১০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট, ৬৬০ মেগাওয়াটের দুইটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপনে চীনের জিজিয়ান জিনডোন হোল্ডিং গ্রুপের সঙ্গে বেজার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জিনডোন গ্রুপ প্রকল্প এলাকা সার্ভে করে একটি রিপোর্টও প্রদান করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করবে জিনডোন গ্রুপ। এখানে কয়েকটি ধাপে প্রতিষ্ঠা পাবে ৫০ টি বিশেষায়িত উপ-অর্থনৈতিক অঞ্চল।ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আবছার বলেন, বিনিয়োগকারীদের পাজারো গাড়ি প্রতিদিন প্রবেশ করছে মঘাদিয়াও ইছাখালী এলাকায়। ইকোনোমিক জোনের আশপাশের এলাকায় গোপনে জায়গা ক্রয় করছে নামিদামী শিল্পগ্রুপ।
যে কারণে জায়গার দামও হুহু করে বেড়ে গেছে। এই প্রকল্পটি বাস্তাবায়িত হলে এলাকার বেকার সমস্যা দূর হবে ও জীবনযাত্রার মান পাল্টে যাবে। মিরসরাই হবে সবচেয়ে পরিকল্পিত শিল্পনগরী। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান বলেন, মিরসরাইয়ের ৪ টি চরের পাশাপাশি ফেনীর অর্থনৈতিক অঞ্চলেল জন্য চর নাছরিন নামে একটি চরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে মিরসরাই শিল্পজোনে যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে ৩০ হাজার একর জায়গায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি গড়ে উঠবে। মিরসরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ আতাউর রহমান জানান, ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের অর্থনীতিতে মিরসরাই অঞ্চল অবদান রাখবে পাশাপাশি এখানকার মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটবে। মিরসরাই ইকোনোমিক জোন বাংলাদেশের ল্যান্ড ব্যাংক।
বেজার যুগ্ম সচিব হারুনুর রশীদ বলেন, সড়ক তৈরি, বেড়ি বাঁধ নির্মাণ ও মাটি ভরাটসহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। চীনের জিনডোন গ্রুপ ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের কাজটি করবে। তারা প্রকল্প এলাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। তারা কার্য্যক্রম শুরু করার জন্য বিদ্যুত বিভাগে আবেদন করেছে। সেখান থেকে অনুমতি পাওয়ারপর প্রকল্প সংলগ্ন এলাকায় কয়লা আমদানির জন্য একটি জেটি তৈরি করা হবে। এরপরই বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তবে এরজন্য বেশি সময় লাগবে না বলে তিনি জানান।বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কাছে।
তাই এখানে বিনিয়োগ করতে দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত আগ্রহী। আমরা খুব দ্রুত এ ইকোনোমিক জোনের কাজ শেষ করার পক্ষে। ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, মাটি ভরাটের কাজ চলছে। যাতায়াতের জন্য পাকা সড়ক তৈরি করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের মধ্যে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল উৎপাদনে যেতে দ্রুত উন্নয়ন কাজ চালানো হচ্ছে। মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে সবচেয়ে পরিকল্পিত শিল্পনগরী। যেখানে আগামী ১৫ বছরে ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
এটি দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এখানে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্লানের মাধ্যমে নাগরিকের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে। এখানে শিল্প-কারখানা, স্কুল, আবাসিক ভবন, মসজিদ, হাসপাতালসহ সব ধরনের সুবিধা রাখা হবে।’গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, ‘ইছাখালীতে জেগে উঠা চর দেখেই অর্থনৈতিক জোনের সম্ভাবনা মাথায় আসে। ২০১০ সালে মহামায়া সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মিরসরাইয়ে আসলে আমি ইছাখালী চরে অর্থনৈতিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানাই। পরবর্তীতে নিজের টাকায় প্রকল্পের একটি পরিকল্পনা আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরি। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী নিজে ইছাখালীতে দেশের সর্ববৃহৎ শিল্পনগরী গড়ে তোলার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। ইতোমধ্যে সেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের বিভিন্ন ধরনের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ে মিরসরাই অর্থনেতিক জোনের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’
