লালদিঘি মাঠে যৌতুক বিরোধী মহাসামাবেশ

সিটিনিউজবিডি: যৌতুকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় ম্যারেজ ফান্ড গঠন করতে হবে । নারী নিগ্রহ ও অবুঝ- নিরপরাধ শিশু হত্যা বন্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, যৌতুকের অভিশাপ হতে দেশ, সমাজ ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে মুক্তি দিতে যৌতুক বিরোধী আইনকে যুগোপযোগী করা,যৌতুকমুক্ত বিয়ের প্রণোদনা হিসেবে যুবক ও দরিদ্র পরিবারগুলোর বিয়ের খরচ জোগাতে সরকারিভাবে ম্যারেজ ফান্ড গঠন করা এবং যৌতুক ছাড়া যারা বিয়ে করে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগসহ নানা দাবিতে চট্টগ্রাম লালদিঘি মাঠে যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

শনিবার বিকেলে আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া বাংলাদেশ এর আয়োজনে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমে দ্বীন পীরে তরিকত আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরীর (মু.জি.আ)আহবানে ৮ম যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশে ঊদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব জননেতা এম এ মতিন,  প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন। এতে সভাপতিত¦  করেন আনজুমানে রজভীয়া নূরীয়া চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ নূরুল হক। সঞ্চালনায় ছিলেন মহাসমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক মাষ্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন। মহাসমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের ঘরে ঘরে আজ কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের কর্তাদের মাঝে নীরব রক্তক্ষরণ ঘটছে। যৌতুকের মতো সামাজিক অনাচার,ব্যাধি ও নিষ্ঠুরতা থেকে গরিব পরিবারগুলো রেহাই পাচ্ছে না। দরিদ্র পরিবারে এক বা একাধিক কন্যা থাকা মানেই নিশ্চিতভাবে মা-বাবাকে সীমাহীন কষ্ট ও যন্ত্রণায় দিন পার করতে হয়। লাখ লাখ টাকা খরচ করে মেয়েদের বিয়ে দিতে না পেরে অনেক বাবা-মা আতœহত্যার মতো পথ ও বেছে নিচ্ছে। বক্তারা বলেন, পুএ সন্তান বা তার বাবা-মাদের দুর্ভোগের ও যেন শেষ নেই। ৫/৭ ভরি স্বর্ণ দিয়ে বা কয়েক লাখ টাকা খরচ করে অনেক যুবকের পক্ষে বিয়ের পিঁড়িতে বসা দুঃসাধ্য। বিয়ে নামক ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনের ক্ষেএে কুসংস্কার ও অনাচার দিন দিন বাড়তে থাকায় লাখ লাখ দরিদ্র পরিবারে নেমে এসেছে অশেষ দূর্ভোগ। যৌতুকের মতো সামাজিক নিপীড়ন থেকে পরিবার,সমাজ ও দেশকে মুক্ত করতে গ্রামে গ্রামে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। যৌতুক বিরোধী আন্দোলনকে সর্বএ ছড়িয়ে দিতে বক্তারা সকলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

মহাসমাবেশে উদ্বোধক এর বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মহাসচিব মাওলানা এম এ মতিন বলেন, যৌতুক, নারী নিপীড়ন ও শিশু হত্যা আজ দেশের বড় সমস্যা।  বর্তমানে দেশের বস্তুগত উন্নয়ন ও সমৃদ্বি ঘটলেও কিছু মানুষের মন-মানসিকতার এখনো পরিবর্তন ঘটছে না। ফলে দেশ ও সমাজে এখনো অনেক অনাচার ও কুসংস্কার শক্ত আসন গেড়ে বসেছে। তিনি যৌতুককে নিরুৎসাহিত করতে যৌতুকমুক্ত বিয়ের জন্য যুবকদেরকে সরকারি চাকুরিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার এবং ম্যারেজ ফান্ড গঠন করে দরিদ্র পরিবারগুলোকে এককালিন সরকারি বিনা সুদে অনুদান দেওয়ার দাবি জানান। এর পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণে বৃত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, যৌতুক,নারী নির্যাতন ও শিশু হত্যা বাড়ছে দেখে আমরা আজ উদ্বিগ্ন । নারীকে কেবল নারী হিসেবে না দেখে বরং মা-বোন হিসেবে গণ্য করে তাদের প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে হবে। ইসলাম নারী জাতির অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চত করেছে। তাই নারীর সত্যিকার মুক্তি ও কল্যাণে ইসলামী নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।চট্টগ্রাম থেকে যৌতুক বিরোধী আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার উল্লেখ করে মেয়র বলেন, আলেম সমাজ যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হলে প্রত্যাশিত দল পাওয়া হবে।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে আনজুমানে রজভীয়া  নূরীয়া বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান পীরে তরিকত আল্লামা মুহাম্মদ আবুল কাশেম নূরী  বলেন, ব্যক্তিগত দায়বোধ থেকে আমি আট বছর ধরে যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশ এর আয়োজন করে আসছি। যৌতক ও নারী নিগ্রহের সমাজ ও দেশকে মুক্ত করায় আমার এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। আল্লামা নূরী বলেন ,  সরকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বহু পদক্ষেপ নিলেও যৌতুকের রাহুগ্রাস থেকে দরিদ্র পরিবারগুলোকে রক্ষায় সরকারের বড় ধরনের  কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারে আজ বিয়ে বয়সী কন্যা ও যুবক রয়েছে। যারা যৌতুকের দাবি মেটাতে না পেরে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে। তিনি বরযাএীর নামে চালু অবৈধ প্রথা বিলুপ্ত করে সুন্নাতি রীতি অনূযায়ী সহনীয়ভাবে বর কর্তৃক ওয়ালিমা প্রথা চালু করা জরুরি বলে মতব্যক্ত করেন।

মহাসমাবেশে অতিথি ও আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সি এম পি কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল জলিল মন্ডল, ইসলামী ফ্রন্ট যুগ্ন মহাসচিব স.উ.ম আবদুম সামাদ, বিভাগীয় সাংগঠনক সচিব কাজী সোলাইমান চৌধুরী, অধ্যাপক কাজী মুহাম্মদ ইউনুচ রেজভী, মাওলানা আবুল হাসান ওমাইর রেজভী, মাওলানা এনাম রেজা কাদেরী, মাওলানা আলাউদ্দিন, মাওলানা মুহাম্মদ সেলিম, এড. আবদুর রশীদ দৌলতী, মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম জিহাদী, পীরজাদা মাওলানা গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, মো: আলী হোসাইন, আলহাজ্ব নাঈমুল ইসলাম, রিয়াদ প্রবাসী আলহাজ্ব এম.এ আওয়াল, কাতার প্রবাসী আলহাজ্ব মুহাম্মদ ফোরকান, কাজী বদিউর রহমান, মাওলানা মোক্তার আহমদ রেজভী, আবু নওশাদ নঈমী, প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব জাহেদুল হাসান রূবায়েত, শায়ের মাছুমুর রশীদ। যৌতুক বিরোধী আইনের প্রয়োগ চাই, যৌতুক মুক্ত সমাজ চাই। বরযাত্রী খাওয়া বন্ধ কর-ওয়ালিমা প্রথা চালু কর, নবীর (দ:) সুন্নাত কায়েম কর – এ ধরনের শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে  লালদিঘীর  যৌতুক বিরোধী মহাসমাবেশ।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চল হতে বাস- ট্রাকযোগে সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষ এ মহাসমাবেশে যোগদেন। যৌতুক বিরোধী গণঘৃণাবোধ লক্ষ্য করা যায় সমাবেশে অংশগ্রহণকারী যুবক -তরুণসহ নানা পেশার মানুষের মাঝে। পরে সালাত – সালাম শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং যৌতুক- নারী নিপীড়ন সহ সামাজিক অনাচার থেকে পরিত্রাণে আল্লাহর রহমত কামনায় মোনাজাত পরিচালনা করেন।

 

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.