নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার দক্ষিণ খুলশী এলাকায় পাহাড় কাটার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে দুর্বৃত্তেদের হামলার শিকার হয়েছেন বৈশাখী টিভির অ্যাসাইনম্যান্ট এডিটর মিঠুন মোস্তাফিজ, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান মহসিন চৌধুরী ও ক্যামেরাপারসন আহাদ। এসময় তারা ক্যামরাও ভাংচুর করে।
হামলার শিকার সাংবাদিকদের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতির কারণে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের আটক করা যায়নি। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালেও তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়নি। ফলে আটক করা যায়নি পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর ও ট্রাক।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে জানিয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.নিজাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
সাংবাদিক মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, শনিবার দিনগত রাত ১টার সময় রাতের আঁধারে দক্ষিণ খুলশীতে ইস্পাহানি পাহাড় কাটার দৃশ্য ধারণ করতে যাই। দৃশ্য ধারণ শুরু হলে শ্রমিকরা পালিয়ে যান। কিন্তু বিষয়টি তদারকির দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তি মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে। পরে তিনি একাই সামনের দিকে এগিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এসময় ইটের আঘাতে এইচডি ক্যামেরাটির সামনের অংশ ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা বিষয়টি খুলশী থানাকে অবহিত করি। কিন্তু আসছে আসছে বলে তারা ঘটনাস্থলে আসেনি। পরে আমরা থানায় গিয়ে অভিযোগ করি এবং বলি ঘটনাস্থলে গেলে এখনই পাহাড় কাটার সঙ্গে ব্যবহার স্কেভেটর ও ট্রাক আটক করা যাবে। এসময় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ওসির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চালিয়ে সময় ক্ষেপন করে। পরে আমরা ফের ঘটনাস্থলে যাই। কিন্তু ততক্ষণে ট্রাকগুলি চলে গেছে।
আবার থানায় গিয়ে বিষয়টি জানালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন মামলার দায়ের করার পরামর্শ দিয়ে বলেন,‘এলাকা খুব খারাপ। আপনারা এসেছেন আগে থেকে আমাদের কিছু জানাননি। যে কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।’
মিঠুন মোস্তাফিজ বলেন, ওসি মামলা দায়ের করার পরামর্শ দিলেও যেহেতু আমরা কাউকে চিনি না, তাই মামলা না করে অভিযোগ দায়ের করি। হামলা কারীর পরিচয় জানা গেলে মামলা দায়ের করবো। তবে হামলাকারীর ছবি দেখে ওসি তাকে চিনেছেন।
পুলিশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশ চাইলে পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পারতো। তাদের গাফিলতি আছে। সময়ক্ষেপন করে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আবাসিক এলাকার গেট বন্ধ থাকার পরও কিভাবে ট্রাকগুলো প্রবেশ করে তা নিরাপত্তা প্রহরীদের কাছে জানতে চাই। তারা বলেন, আমাদের কিছুই করার নেই।তবে হামলাকারী ওই ব্যক্তি গুটি জামাল হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে জানান তারা।

Comments are closed.