সিটিনিউজবিডি : দ্বিতীয় দফায় ৪৭ জেলার ৬৩৯ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আজ। প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা ও কারচুপির ঘটনায় দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত বিরোধী মতের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ইতিমধ্যে প্রতিপক্ষের কেন্দ্র দখলের হুমকি-ধমকিসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রতিকার চেয়েছেন তারা।
তবে নির্বাচন কমিশন ভোটারদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় মাঠে টহলে রয়েছে বিজিবি, র্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ প্রায় দেড় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রার্থী, ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা: দ্বিতীয় ধাপে আওয়ামী লীগের ৩১ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ধাপে ৬৩৯ ইউপিতে মোট ৩৩ হাজার ২৯০ প্রার্থী রয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন ৩ হাজার ১১৪ জন। এর মধ্যে ১৭টি রাজনৈতিক দলের এক হাজার ৫৫৯ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন এক হাজার ৫৫৫ জন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৬ হাজার ৭৯৯ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৩ হাজার ৩৭৭ জন। এসব ইউপিতে মোট ভোটার ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩৪ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৬ হাজার ২০৫টি। ভোটকক্ষ ২৩ হাজার ২১টি। আজকের ভোটে মোট ১ লাখ ২ হাজার ২৬৮ জন ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৬ হাজার ২০৫ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৩২ হাজার ২১ জন ও পোলিং অফিসার ৬৪ হাজার ৪২ জন।
অনিয়ম হলে ছাড় নয়: ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে অনিয়ম হলে ছাড় দেবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ। গতকাল বুধবার তিনি বলেন, ভোটে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরাধ করলে সে যেই হোক তাকে গ্রেফতার ও তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নির্বাচনী আইনানুযায়ী কোনো নির্বাচনী এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোট গ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটগ্রহণের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ওই নির্বাচনী এলাকায় কোনো ব্যক্তি কোনো জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান করতে এবং কোনো মিছিল বা শোভাযাত্রা সংঘটিত করতে বা তাতে যোগদান করতে পারবেন না। এই বিধি লঙ্ঘন করলে অন্যূন ৬ মাস বা অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

Comments are closed.