সিটি মেয়রের সাথে এনজিও প্রতিনিধিদের মতবিনিময়

চট্টগ্রাম :  ৬ এপ্রিল ২০১৬ খ্রি. বুধবার, দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে সিটি মেয়রের দপ্তরে চট্টগ্রামে দায়িত্বে নিয়োজিত এনজিও সমূহের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এনজিওদের সাথে মতবিনিময়ে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম একটি সমৃদ্ধ নগরী। এ নগরীকে বিশ্বমানের নগরীতে পরিনত করার লক্ষে কতিপয় কর্মসূচি গ্রহন করে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। মেয়র বলেন, নাগরিক স্বার্থে নগরীকে স্মার্ট সিটিতে পরিনত করার জন্য ক্লিন এবং গ্রিন সিটির ভিশন বাস্তবায়ন করা হবে। মেয়র বলেন, এ লক্ষে রাতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়াও ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারন কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে। নগরীর ফুটপাত, মিডআইল্যান্ড, গোলচত্বর, মোড় ও দৃশ্যনীয় স্থানগুলোকে বিউটিফিকেশনের আওতায় আনার কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। বিলবোর্ড উচ্ছেদ করে নগরীর নৈসর্গিক সৌন্দর্য ফিরে আনা হয়েছে।

আলোকিত নগরীর ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষে এলইডি, ওয়াইফাই ও আইপি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানীর সাথে চুক্তি হচ্ছে। জনাব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, নাগরিক সুবিধা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হলে নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্সও শতভাগ পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তিনি এনজিওতে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। মেয়র বলেন, সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইন করে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন করে দিয়েছে। সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্স ধার্য করেনা। ধার্যকৃত ট্যাক্স আদায় করে মাত্র। সিটি মেয়রের সাথে মতবিনিময়ে এনজিও প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মমতা’র আলহাজ রফিক আহমদ, কোডেক’র কমল সেন গুপ্ত, বিটা’র শিশির দত্ত, ইলমা’র জেসমিন সুলতানা পারু, ইপসা’র মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, ঘাসফুল’র আঞ্জুমান বানু লিমা, ওডেব’র অধ্যাপক শ্যামলী মজুমদার, বনফুল’র রেজিয়া বেগম, বিবিএফ’র উৎপল বড়ুয়া, উৎস’র মোস্তফা কামাল যাত্রা, সিআরসিডি’র ইকবাল বাহার ছাবেরী, ওয়াল্ডভিশন বাংলাদেশ’র ডা. স্যামূয়েল প্রাণতোষ চাকমা, বিবিএফ’র সোহাইল উদ দোজা এবং আইএসডিই’র জাহাঙ্গীর আলম সহ অন্যরা।

মতবিনিময় কালে এনজিও প্রতিনিধিরা বলেন,বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রণী ভূমিকার পাশাপাশি সহায়ক শক্তি হিসেবে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন সংস্থাসমূহ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যাপক ও সমন্বিত উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেছে এবং ভিশন-২০৪১ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আন্তরিকতার সাথে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যেতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম হব এবং আগামী ২০২১ সালে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ গড়তে সরকারের উন্নয়ন সহযোগি হিসেবে জাতীয় উন্নয়ন গতিশীল ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত এনজিওসমূহ আরো বেশী অবদান রাখতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এনজিও কর্মকর্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রমসহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-এসডিজি অর্জনে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত এনজিওসমূহ সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতিশ্রুত ক্লিন ও গ্রীণ চট্টগ্রাম গঠনে অবদান রাখতে পারবে। এনজিও প্রতিনিধিগণ বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাণ এবং দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর মধ্যে অন্যতম। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অনেকগুলো ভালো কাজের এবং ভালো উদ্যোগের জন্য দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন থেকে একটু আলাদা এবং বিভিন্ন সমাজ উন্নয়ন ভিত্তিক কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিয়ে থাকে। ক্লিন ও গ্রীণ চট্টগ্রাম করতে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকাকে নারী ও শিশু নির্যাতনমুক্ত, প্রতিবন্ধী ও যুব বান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.