টেরেসার নতুন মন্ত্রীসভায় যারা স্থান পেলেন

আন্তর্জাতিক : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করেছেন টেরেসা মে। নিয়োগ দেয়া শুরু করেছেন। টেরেসা মের মন্ত্রিসভায় ব্রেক্সিটের পক্ষে ও বিপক্ষের নেতারা সমান গুরুত্ব পেয়েছেন। মন্ত্রিসভার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদ অর্থাৎ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‍হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন লন্ডনের সাবেক মেয়র বরিস জনসনকে। তার এই নিয়োগে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। কেননা লন্ডনের এই সাবেক মেয়র যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে প্রচারের নেতৃত্বে ছিলেন।

যুক্তরাজ্যের নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে ফিলিপ হ্যামন্ডকে নিয়োগ দিয়েছেন মে। ক্যামেরনের সরকারে ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। তার আগে প্রতিরক্ষা ও পরিবহন মন্ত্রণালয় সামলেছেন হ্যামন্ড।

টেরিজা মের ছেড়ে যাওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাম্বার রড। তিনি অবশ্য ব্রিটেনের ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। ক্যামেরন সরকারে জ্বালানি ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে বহাল রয়েছেন মিচাইল ফ্যালন। ২০১৪ সাল থেকে এই মন্ত্রণালয় সামলে আসছেন ফ্যালেন।

ইইউ থেকে বেরিয়ে আসার পর নানান দেন-দরবার করার জন্য টেরেসা মে নিয়োগ দিয়েছেন আর এক লিভ ক্যাম্পেইনার ডেভিড ডিভিসকে। তিনি ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। কনজারভেটিভ পার্টির বয়োজ্যেষ্ঠ এমপি ডেভিস ২০০৫ সালে দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে ডেভিড ক্যামেরনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ব্রেক্সিটের পক্ষে সোচ্চার ডেভিসকে নতুন সৃষ্ট পদ ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রতিমন্ত্রী’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন লিয়াম ফক্স। এর আগে ২০১০ সালে তিনি ক্যামেরুনের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রবেশাধিকার ও সরকারি বিদেশ সফরে সঙ্গে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মন্ত্রিসভা থেকে সরে যান তিনি। ডেভিসের মতো ফক্সও ব্রেক্সিটের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।

গত বুধবার রানী এলিজাবেথ ডেভিড ক্যামেরনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরপরই টেরিসা মেকে সরকার গঠনের আহবান জানান। রানী এলিজাবেথের শাসনামলের ১৩তম প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। এদিকে যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় টেরেসা মেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মের্কেল এবং ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফাঁসোয়া ওঁলাদে।

এ বিভাগের আরও খবর

Comments are closed.