কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্নেল ফোরকান

0

জামাল জাহেদ, কক্সবাজার : বহু প্রতিক্ষিত অপেক্ষার ফল অবশেষে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হলেন ঈদগাঁওর কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন নিয়োগ-৩ অধিশাখা কর্তৃক রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উক্ত মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মুঃ জসিম উদ্দীন খান কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদকে নবগঠিত কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)এর চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেন। ১১ আগষ্ট ২০১৬ ইংরেজী তারিখে জারীকৃত মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পদে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের পর অবসরে যান।

এছাড়া সেনাবাহিনীর চাকরি জীবনে তিনি ১৯৯৬ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট রেজিঃমেন্ট গার্ড ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। এ ছাড়াও লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ফোরকান আহমদ, এলডিএনসি,পিএসসি ১৯৫৯সালের ২১শে ফ্রেবুয়ারি ঈদগাঁও এলাকার দক্ষিণ মাইজপাড়ার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জম্মগ্রহন করেন। তার পিতা মৃত হাজি মুহাম্মদ নাজির হোসেন,মাতা রুপ বাহার বেগম। তিনি মাইজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করে, ঈদগাও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে পরে ৮ম শ্রেনীতে বৃত্তি লাভ করে ৯ম শ্রেনী পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ককসবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণী তে উত্তীর্ণ হন।
এরপর তিনি চট্রগ্রাম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়ে ১৯৭৬ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে অনার্স কোর্সে পড়াকালীন সময়ে তিনি সেনাবাহিনীতে ৩য় বাংলদেশ মিলিটারী একাডেমি কোর্সে পরীক্ষা দেন এবং চুড়ান্ত নির্বাচনে সফল হয়ে ৩০শে জুলাই ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি ভাটিয়ারীতে যোগদান করেন। সেখানে ২বছর সফল প্রশিক্ষণের পর ১৯৮০ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসাবে কমিশন লাভ করেন। একই সময় তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসিতে ২য় বিভাগে ডিগ্রী লাভ করেন। এবং সে সময় মিলিটারী স্টাপ কলেজ হতে পিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৯৮ এবং ১৯৯৯ সালে তিনি ভারতের স্পাইনিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার্স এম ম্যানেজমেন্ট স্টাডি ডিগ্রি লাভ করেন। একই সময়ে তিনি ভারতের কলেজ অফ ডিপেন্স ম্যানেজমেন্ট অব লং ডিপেন্স ম্যানেজমেন্ট কোর্সে এলডিএনসি উপাধিতে ভূষিত হন। বিভিন্ন পদবী লাভ করার পর তিনি পার্বত্য চট্রগ্রাম সহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গ্যারিজনে দীর্ঘকাল বিভিন্ন পদবীতে চাকরি করেন। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিঃমেন্ট এ ডিপুটি কমান্যাডেন্ট হিসাবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তি স্থাপনে বিভিন্ন স্থানে কাজ করেন। চাকরিকালীন সময়ে তিনি জাতিসংঘের অধীনে দুবার জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে মোজাব্বিক ও আইভোরি কোস্টে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য সুনাম কুড়িয়ে এনেছিলো।

বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সকল যোগ্যতা থাকা সত্বেও তিন ৩বার পদোন্নতি বোর্ডে বিএনপি সরকার কতৃক ছাড়পত্র পায় নাই। সরকারি চাকরিতে থাকাকালে তিনি সরকারি ভাবে সফর করেন ভারত, মালদ্বীপ,অারব আমিরাত,জাপান,সৌদি আরব,সিংগাপুর,চীন সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেন। তিনি দুবার পবিত্র হজ্জ পালন করেন। বিদেশ ভ্রমন ছাড়াও গলফ খেলায় রয়েছে তার দারুন শখ, সেই সখের বসে ভাটোয়ারি গলফ ক্লাব ও আর্মি গলফ ক্লাবের আজীবন সদস্য মনোনিত হন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে জনস্বার্থে ও ককসবাজারের মাটি ও মানুষের উন্নয়নে সক্রিয় হতে ইচ্ছুক। তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বর্তমান সরকারের সময়ে ককসবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ এর দায়িত্ব পাবার জন্য কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সরকারের উচ্চ মহলের । তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ছিলেন হওয়াতে কক্সবাজার জেলার সর্বোচ্চ কর্মকর্তার দায়িত্ব পান।

তিনি ককসবাজার জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা সদস্য ও অব: সেনা কর্মকর্তা। ককসবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পাবার অনুভুতিটা কেমন জানতে চাইলে কর্ণেল (অব)ফোরকান জানান, ককসবাজার নিজের এলাকা হওয়াতে নিজ দায়িত্ব ও ককসবাজারে সুতরাং ককসবাজারকে নিজের মতো সাজিয়ে বিশ্বের দরবারে উপস্থিত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং পৃথিবীর সমস্ত দেশের মানুষ যেনো নির্বিঘ্নে নিরাপদে ককসবাজারে বিনোদন মুলক সময় অতিবাহিত করতে পারে সে রকম একটা ককসবাজার দেখতে চান তিনি।
এবং ককসবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত করায় ককসবাজারবাসীর পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.