হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্বিবিদ্যালয়ে ছাত্রদের ধর্মঘট অব্যাহত

0

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ঢাকার পরিত্যক্ত কারাগারে নতুন হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ছাত্র ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। দাবি আদায়ে আজ ২১ আগষ্ট রোববার সকালে বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক‌্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলনের কারণে কোনো বিভাগেরই-ক্লাস পরীক্ষা হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ নতুন একাডেমিক ভবনের তালা ভাঙতে যান বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করলেও তা তিনি প্রত‌্যাখ‌্যান করেছেন।
বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট পালনের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শাহেদ ইসলাম বাদল রোববারের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
হলের বিষয়ে রোববারও সরকার বা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো আশ্বাস না পেলে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

দাবি আদায়ে রোববার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ছাড়া বিভিন্ন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তারপর থেকে কয়েকশ শিক্ষার্থী বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সকাল ৯টার দিকে প্রক্টর নতুন একাডেমিক ভবনের তালা ভাঙতে যান।

তবে প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, আমি তালা ভাঙতে যাইনি। শিক্ষক-কর্মচারীদের যেন ঢুকতে দেওয়া হয়, আমরা তা বলে এসেছি।

আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা উচ্চপর্যায়ে কথা বলেছেন। তারা চান, শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে ক্লাস-পরীক্ষা দিক।
নতুন হল নির্মাণের দাবিতে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সামনের সড়কে অবস্থান নেয় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাহাদুর শাহ পার্ক ও আদালত পাড়ার রাস্তাও দখল করে বিক্ষোভ করে তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় পুরান ঢাকায় যানজট সৃষ্টি হয়।

২০০৫ সালে অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানের ১১টি হল প্রভাবশালীদের দখলে ছিল।

২০০৯ সালে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনে সরকারের উচ্চ মহলের টনক নড়ে। ওই সময় একাধিক হল বিশ্ববিদ্যালয়কে দিতে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ থাকলেও তা কার্যকর করেনি ঢাকা জেলা প্রশাসন।

পরে ২০১১ ও ২০১৪ সালে জোরালো আন্দোলনে দুটি হল পুনরুদ্ধার হলেও তা ব্যবহার উপযোগী করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরেকটি হল আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দখলে থাকলে তা নিয়ে নেই কোন পরিকল্পনা; নতুন দুটি হল নির্মাণের উদ্যোগেও রয়েছে দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ।

১৯৮৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জগন্নাথের ৮টি হল বন্ধ হয়ে যায়।

গত ২ আগস্ট থেকে সেই মন্ত্রণালয়ের অধীন নাজিম উদ্দিন রোডে পরিত্যক্ত কারাগারের জমিতে হল নির্মাণের দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। জমিটি পেতে ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে আবেদন করেছিল।

এবারে আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জায়গাটির জন্য গত ১৪ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য মীজানুর রহমান।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.