অনলাইন ডেক্স : ইতালির মধ্যাঞ্চলে ছয় দশমিক দুই মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দশজন নিহত হয়েছেন ও বেশ কিছু ভবন ধসে পড়ে লোকজন আটকে আছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
তবে ইতালীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৩ এবং এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার ভোররাত ৩টা ৩৬ মিনিটে উমব্রিয়া অঞ্চলের পেরুজিয়া প্রদেশের নরচা টাউনের কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়।
ইতালির ভূমিকম্প ইনিস্টিটিউট (আইএনজিভি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কার পর পরবর্তী চার ঘন্টায় ৬০টি পরাঘাত হয়েছে, এর মধ্যে একটি পাঁচ দশমিক পাচ মাত্রার ছিল।
আইএনজিভি ভূমিকম্পটির মাত্রা ছয় বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পার্বত্য এলাকাগুলোর টাউন ও গ্রামগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর তেমন ক্ষতি হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো অ্যাকুমোলি, আমাত্রিসি, পোস্তা এবং আরকুয়াটা দেল টরোনটো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাকুমোলির মেয়র স্তেফানো পেত্রুচ্চি বলেন, “দিনের আলোতে আমরা বুঝতে পারছি যা ভেবেছিলাম পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়ঙ্কর। ভবনগুলো ধসে পড়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে লোকজন চাপা পড়েছে আর সেখানে জীবনের কোনো সাড়া নেই।”
এর আগে পেত্রুচ্চি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক আরএআই-কে জানিয়েছিলেন, একটি বাড়ি ধসে এক পরিবারে চারজন চাপা পড়েছেন, তারা বেঁচে আছেন এমন কোনো ইঙ্গিত মিলেনি।
পুলিশের বরাতে আরএআই জানিয়েছে, অ্যাকুমোলিয়ার নিকটবর্তী পেসকারা দেল টরোনটো গ্রামে দুই জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ছোট টাউন অ্যামাত্রিসিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
অ্যামাত্রিসির মেয়র সেরগিও পিরোজ্জি বলেছেন, “শহরের ৭৫ ভাগ অংশ আর সেখানে নেই। এখন লক্ষ্য হল যত বেশি মানুষকে সম্ভব বাঁচিয়ে রাখা। ধ্বংসস্তূপের নিচে লোকজনের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের রক্ষা করতে হবে।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সংবাদিক জানিয়েছেন, টাউনটির হাসপাতালেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, রোগীদের বের করে রাস্তায় এনে রাখা হয়েছে।
ভূমিকম্পে তিন অঞ্চল, উমব্রিয়া, ল্যাজিও ও মার্চে-র টাউনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
নরচার মেয়র নিকোলা আলেম্যানো জানিয়েছেন, এই টাউনের কারো নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
আরএআই-কে তিনি বলেন, “টাউনের ভূমিকম্প-প্রতিরোধী কাঠামোগুলো অক্ষত আছে। তবে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আমাদের এখানে কেউ গুরুতর আঘাত পায়নি।”
ভোররাতে প্রবল ঝাঁকুনিতে ভূমিকম্প উপকেন্দ্রের ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে রাজধানী রোমের বাসিন্দাদের ঘুম ভেঙে যায়।
উমব্রিয়ার সিসেল্লি এলাকার লিনা মেরক্যান্টিনি বলেন, “এটা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। মনে হচ্ছিল বিছানাটা আমাদের নিয়ে রুমের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করছে।”
নিকটবর্তী শ্চেজ্জিনো টাউনের বাসিন্দা ওলগা উরবানি বলেন, “হায় খোদা, এটা ভয়াবহ ছিল। দেয়ালগুলো ফাটল ধরে যায় আর বইগুলো সব শেলফ থেকে পড়ে যায়।”
ভূমিকম্পের কারণে উমব্রিয়া অঞ্চলের গুবিয়োর বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা মাত্তেও বের্লেঙ্গা বলেন, “এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে (ভূমিকম্প) ।”
ইউএসজিএস প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছয় দশমিক চার এবং ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূত্বকের মাত্র ছয় দশমিক দুই মাইল গভীরে বলে জানিয়েছিল।
দুটি ভূতাত্ত্বিক ফল্ট লাইন (চ্যুতি) ইতালির ভিতর গিয়েছে। এ কারণে ইউরোপের সবচেয়ে ভূকম্পপ্রবণ এলাকাগুলোর মধ্যে দেশটি অন্যতম।
