সিটিনিউজবিডি : এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির ‘মিথ্যা’ অভিযোগ আনায় এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কৃত শাপলা সুলতানা সাফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা (উর্দু) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের এই কর্মী রোকেয়া হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
শাপলার অভিযোগ তদন্ত করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়।
সিন্ডিকেট সদস্য ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে অভিযোগকারী ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর আগে সিন্ডিকেট থেকে ওই ছাত্রীকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েছিলেন শাপলা।
তখন ওই শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে নানা কর্মসূচি পালন করেছিল ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনও ঘেরাও করেছিল তারা।
এরপর ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তৎকালীন ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিনকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক তারিকুল হাসান ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. উজ্জ্বল হোসেনকে সদস্য করা হয়েছিল।
কমিটির সদস্যরা তদন্ত করে জানায়, শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এরপর তারা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগকারী শাপলাকে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়।
সেই নোটিশের উত্তর পাওয়ার পর রোববার সিন্ডিকেট এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
