খেলাধুলা : বর্তমানে সেরা ফুটবলার নিয়ে তর্কটা হতো লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে। কারও চোখে মেসি সেরা, আবার কারও চোখে রোনালদো। এ দুজনের পর কে? নেইমার আছেন, গ্যারেথ বেল আছেন। সুয়ারেজ-গ্রিজমানরাও আলো ছড়াচ্ছেন। কিন্তু পেপ গার্দিওলাকে জিজ্ঞেস করুন, মেসির পর দ্বিতীয় সেরা হিসেবে এই মুহূর্তে ম্যানচেস্টার সিটি কোচ বলবেন কেভিন ডি ব্রুইনের নাম।
কোচিং ক্যারিয়ারে তারকা অনেক ফুটবলারকেই দলে পেয়েছেন গার্দিওলা। বার্সেলোনায় মেসির পাশাপাশি পেয়েছেন জাভি-ইনিয়েস্তার মতো যুগান্তকারী দুই মিডফিল্ডারকেও। সর্বশেষ দল বায়ার্ন মিউনিখেও ছিলেন রোবেন-মুলার-লামের মতো দুর্দান্ত সব খেলোয়াড়। স্পেন ও জার্মানিতে ইউরোপের কুলীন দুই ক্লাবের দায়িত্ব শেষে গার্দিওলা এখন ইংল্যান্ডে, ম্যানচেস্টার সিটির ডাগআউটে। আর এখানে এসেই ৪৫ বছর বয়সী স্প্যানিশ কোচ মুগ্ধ হয়ে গেছেন ডি ব্রুইনকে দেখে।
গতকাল প্রিমিয়ার লিগে বোর্নমাউথের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হয়েছেন ডি ব্রুইন। ম্যাচের পর গার্দিওলা তো বেলজিয়ান মিডফিল্ডারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিলেন, ‘মেসি হয়তো একেবারেই ভিন্ন ব্যাপার। সেটি এক পাশে রেখে বললে, কেভিনও ও রকম অবস্থানেই থাকবে। আমার চোখে ও বিশেষ একজন খেলোয়াড়, দুর্দান্ত! সবকিছুই করতে পারে, বল পায়ে না থাকলে সবার আগে এগিয়ে গিয়ে লড়াই করে, বল পায়ে থাকলে কী করবে সেটিও পরিষ্কার। মাঠের সবকিছুই যেন চোখের সামনে দেখতে পায়।
গার্দিওলার অধীনে মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব ম্যাচেই জিতেছে সিটি, খেলার ধরনেও যেন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ‘গার্দিওলার দল’। আর সিটির সৃষ্টিশীলতার প্রাণ এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডারই। গত শনিবার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে সিটির দুই গোলের একটি করেছেন, করিয়েছেন আরেকটি। বোর্নমাউথের বিপক্ষেও গোল করিয়েছেন দুটি। আর গোলও করেছেন অবিশ্বাস্য চাতুর্যে, ফ্রি কিক পেয়ে সেটি মেরেছেন লাফিয়ে ওঠা মানবদেয়ালের নিচ দিয়ে।
ডি ব্রুইনের এই দ্রুত চিন্তা করার ক্ষমতাটাই গার্দিওলার মন কেড়েছে, ‘কখন কী করতে হবে, একেবারে ঠিক সময়ে ও সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং প্রতিবারই সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। এ কারণেই ও অন্য পর্যায়ের খেলোয়াড়। ওকে দলে পাওয়াটা আমার সৌভাগ্য।’ সূত্র : এএফপি।
