দক্ষিণ চট্টগ্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাই

0

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ : চন্দনাইশ উপজেলা সহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি উপজেলায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাস্তার পাশে পশু জবাই চলছে অহরহ। জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে, প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরব।

চন্দনাইশ উপজেলার রওশনহাট, পাঠালির পুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে, আনোয়ারা উপজেলার চৌমুহনির দক্ষিণ পাশ, মালঘর বাজার সংলগ্ন রাস্তার উপর, পশ্চিম পটিয়া ফকিরনির হাট, শীকলবাহা ক্রসিং সহ বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রতিদিন গবাদি পশু জবাই করা হচ্ছে। পশু জবাইয়ের জন্য সরকারি কসাই খানা থাকলেও কসাইরা সেখানে জবাই না করে, যত্রতত্র পশু জবাই করছে। ফলে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়লেও প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে। প্রতিদিন এ সকল জবাই করা গরুর মলমূত্র, নাড়ি-ভূড়ি যত্রতত্র ফেলে রাখার ফলে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তাদের পছন্দমত স্থানে কসাইরা গরু, মহিশ জবাই করলেও এর বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। খোলা আকাশের নিচে যত্রতত্র পশু জবাইয়ের কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার রওশনহাটের উত্তর পার্শ্বে বিজিসি ট্রাস্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রতি রওশনহাট বাজারের দিন, এদিকে খানহাট ও বাগিচাহাট বাজারের দিন, পাঠানিপুল এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে ভোর বেলায় কসাইরা মহাসড়কের পাশ দখল করে নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোন রকম ডাক্তারী পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করছে। এ সকল পশুর মাংস বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করছে অবাধে। অপরদিকে আনোয়ারা মালঘর বাজার সংলগ্ন বাজারে রাস্তার উপরে বাজার বারে, চৌমুহনির দক্ষিণ পাশে রাস্তার দুই পাশে বেশ কয়েকটি গরু সকাল বেলা জবাই করে সে মাংস চৌমুহনি বাজারে বিক্রি করছে অবাধে। একইভাবে পশ্চিম পটিয়ার ফকিরনির হাট ও শীকলবাহা সাপ্তাহিক বাজারের দিন অবাধে বিনা বাধায় পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছে বিভিন্ন বাজারে। শুধুমাত্র পটিয়ার শান্তির হাটের মাংস বিক্রেতারা কসাইখানায় গরু জবাই করছে।

তাছাড়া রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে পশু জবাইয়ের কারণে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অথচ সরকারিভাবে নিয়ম রয়েছে মাংস বিক্রির জন্য পশু জবাই এর আগে সম্পূর্ণ রোগমুক্ত এবং খাবার উপযুক্ত কিনা তা পশু ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করে নিতে হবে। পশুটি খাওয়ার ও জবাই এর উপযোগী বিবেচিত হলে তা সরকার নির্ধারিত কসাইখানায় নিয়ে জবাই করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম মোতাবেক মাংসের উপর সীল মেরে তা বাজারে বিক্রির অনুমতি দেয়ার পরই শুধু মাংস বিক্রি করা যাবে। পশু জবাই ও মাংস কাটার যাবতীয় সরঞ্জাম ব্যবহারের আগে জীবাণুমুক্ত করা, খোলা মাংস বিক্রি না করা, মাংসের দোকানে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিধান থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা কোনভাবে।

ভোরে জবাই করা পশুর মাংস সারাদিন উন্মুক্ত স্থানে নোংরা পরিবেশে ঝুলিয়ে বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এসব বিষয় তদারকি করার জন্য বিভিন্ন উপজেলায় পশু ডাক্তার, সেনিটারি ইন্সপেক্টর থাকলেও এসব দেখার জন্য কেন কেউ নেই বললেই চলে। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে-মহিষ জবাই করে গরুর মাংস হিসেবে এবং ভেড়া জবাই করে ছাগলের মাংস হিসেবে বিক্রয় করে প্রতারিত করছে কসাইরা। এর শিকার হচ্ছে সাধারণ ক্রেতারা। যত্রতত্র রোগাক্রান্ত গবাদি পশু অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই এর ফলে পশুর মলমূত্র, নাড়ি-ভুড়ি ও রক্তের পঁচা গন্ধে বিপন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার পরিবেশ।
এদিকে পটিয়ার ভাইয়ের দীঘি এলাকায় বিশাল মুরগীর ফার্মটির দুর্গন্ধে যেন চলাচল করা মুশকিল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের এ ফার্মের পাশ দিয়ে হাজার হাজার গাড়ী ও যাত্রীসাধারণ চলাচল করলেও প্রশাসনের কোন ভূমিকা নেই বললেই চলে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার কিছুদিনের জন্য এ দুর্গন্ধ বন্ধ হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ এলাকাটিকে গন্ধমুক্ত করার জন্য স্থায়ীভাবে কোন রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা বলে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ যাত্রীদের।

এ সড়ক দিয়ে সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিরা চলাচল করলেও কি এক অজানা কারণে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এবং সেনিটারী ইন্সপেক্টর এ বিশাল মুরগীর ফার্মটিকে দুর্গন্ধমুক্ত করছেনা তা সাধারণ জনগণের প্রশ্ন। এসব এলাকার লোকজন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভুগছে প্রতিনিয়ত এবং বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত রোগের শিকার হচ্ছে বলেও জানা যায়। এলাকার সচেতন মহল এবং সাধারণ যাত্রীরা জরুরীভাবে ভাইয়ের দীঘির পাড় এলাকার মুরগির ফার্মটি দুর্গন্ধমুক্ত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.