নিষিদ্ধ পলিথিনে ছেয়ে গেছে চট্টগ্রাম

0

দিলীপ তালুকদার : চট্টগ্রাম জেলার শহর বন্দর মফস্বল সর্বত্র নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার ব্যাপকহারে বেড়েছে। শহর কিম্বা গ্রামের প্রতিটি হাট-বাজার, দোকান, ফুতপাট, বড় বড় শপিং মলেও পলিথিনের ব্যবহার চলছে। আর এ সমস্ত ব্যবহৃত পলিথিন যত্রতত্র ফেলানোর কারনে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পরিবেশ।

অন্যদিকে, এসব পলিথিন নালা-নর্দমা, খালের মধ্যে আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে। মহানগরীর প্রতিটি নালা-নর্দমা ও খালে পলিথিনের জটলা আটকে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্লিপ্ততার কারনে পলিথিন ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাকে মাসিক মাসোহারার ভিত্তিতে ম্যানেজ করে পলিথিন উৎপাদন করছে। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও অদৃশ্য কারনে নীরব রয়েছে।
জানা যায়, ১৯৮২ সালে প্রথম বাংলাদেশে পলিথিনের বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার শুরু হয়। দাম তুলনামুলকভাবে কমও পরিবহনে সহজ হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে । কিন্তু ক্রমাগত পলিথিনের ব্যাপক ব্যবহার এবং যেখানে সেখানে পলিথিন ফেলে দেয়ার কারণে তা পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। বিশেষ করে ড্রেন, ডোবা , পুকুর, নালা, খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পলিথিন জমা হবার ফলে ওসব স্থানে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে মশা- মাছির প্রজনন বৃদ্ধিসহ পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়।
পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ২০০২ সালে তৎকালীন সরকার পলিথিনের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয়, প্রদর্শনী, মজুদও বিতরণ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু নিষিদ্ধ হওয়ার ১ যুগ পেরিয়ে গেলেও পলিথিনের অবাধ ব্যবহার থামছেনা। যদিও সরকার ২০১০ সালে পলিথিনের পরিবর্তে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারের আইন পাশ করে।
জানা গেছে, গত প্রায় দুই বছর ধরে পলিথিন বিরোধী সরকারী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তাই অনেকটা প্রকাশ্যে পলিথিনের অবাধ ব্যবহার থামছে না।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.