সিটিনিউজবিডি : ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ইতালির পর এবার বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে দেশটির প্রতনিধিরা। বাংলাদেশও তাদের ব্যান্ডউইথ দিতে চায়।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে ভারত ছাড়াও ভুটান, নেপাল, মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ইতালি ব্যান্ডউইথ নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে। এর মধ্যে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে আছে ভুটান। এছাড়া ইতালিতে ব্যান্ডউইথ দেয়ার জন্য একটি ফাইল গত বছর ফেব্রুয়ারিতে বিএসসিসিএল অনুমোদন দিয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি ফাইল পাঠিয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) অষ্টম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ইতোমধ্যে আমরা পাশের দেশ ভারতের বাজার ধরেছি। তারা আরো জিবিপিএসের চাহিদা পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের সঙ্গেও ইন্টারনেট ডেটা বিক্রির কথা চলছে।
ফয়জুর রহমান চৌধুরী আরো বলেন, ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে কুয়াকাটাসংলগ্ন এলাকায় সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন। এটি চালু করা হলে ১ হাজার ৫০০ গিগাবিট ডেটা (জিবিপিএস) পার সেকেন্ডে সরবরাহ করা সম্ভব। এখান থেকে সাড়ে ৭০০ জিবিপিএস দেশের বাইরের বাজারে বিক্রি করার চিন্তা রয়েছে। বাকিটা দেশে ব্যবহার করা হবে।
পটুয়াখালীর উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামে নির্মাণাধীন সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন প্রাঙ্গণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানির চেয়ারম্যান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. ফয়জুর রহমান চৌধুরী।
সভায় বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কোম্পানির পরিচালক জালাল আহমেদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও কোম্পানির পরিচালক শওকত মোস্তফা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কোম্পানির পরিচালক রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী, পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ ও কোম্পানি সচিব আবদুস সালাম খান প্রমুখ।
বিএসসিসিএল’র এমডি মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে বিকল্প পথে ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইথ আনার জন্য সিমিউই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামের সদস্যপদ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সিমিউই-৪ এর (সাউথ এশিয়া-মিডলইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ) ক্যাবলের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। এর মালিক হচ্ছে ১৬ দেশ।
সদস্য দেশগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিশিয়া, আলজিরিয়া ও ফ্রান্স। সিমিউই-৫ নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হবে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবলের কাছে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ রয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৩২ জিবিপিএস। যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হচ্ছে তা দেশের বাইরে রফতানি করার জন্য গত চার বছর আগে থেকেই তৎপর রয়েছে বিএসসিসিএল কর্তৃপক্ষ।
