মোঃ সাইফুল উদ্দীন, রাঙামাটি : রাঙামাটি শহরের সরকারি মহিলা কলেজ সড়কে দ্বিতল ভবন কাপ্তাই হ্রদে ধসে পড়ে ৩ শিশুসহ নিহত ৫ জন। গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ করে মোট ৪ জনকে উদ্ধার করার সম্ভব হয়েছে। যাদেরকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষনা করেন। পরে নিঁখোজ আরো একজন শিশুকে রাতভর উদ্ধার কাজ পরিচালনার পরে মধ্য রাতে সে শিশুর লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নিহতরা হলেন জাহিদ(৪০), উম্মে হাবিবা(২২), পিংকি(১৩), সামিদুল(০৭), সাজিদুল (১০)। এদের মধ্যে জাহিদ ও পিংকি পিতা ও কন্যা।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে মহিলা কলেজ সড়কের হ্রদের পাড়ে দিকে অবস্থিত নঈমউদ্দিন টিটু নামের এক ঠিকাদারের মালিকানাধীন দ্বিতল ভবনটি ডেবে যেতে শুরু করে। মাত্র ১০ মিনিট সময়ের মধ্যে ভবনটির নিচতলা পুরোই ডেবে যায়। এসময় ভবনের দুটি ফ্লোরে অন্তত চারটি পরিবার আটকে পড়ে।
ধসে পড়া ভবনের বাসিন্দা ও উদ্ধার হওয়ার এক নারী জানিয়েছেন, বিকাল থেকেই ভবনটির সড়কের পাশের মাটি সরছিলো এবং ভবনটি ধীরে ধীরে হেলে পড়তে শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ বিকট শব্দে ভবনটি মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং কাপ্তাই হ্রদের পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধির কারণে এবং হ্রদের পাড়ের জায়গা দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত অসংখ্য স্থাপনার কারণে এইসব ভবন সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কখনই রাজনৈতিক কারণে এসব স্থাপনার বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোন পদক্ষেপ। যে ভবনটি ধসে পড়েছে, সেই ভবনটির প্রায় সবগুলো ভিতই কাপ্তাই হ্রদের জলের মধ্যেই অবস্থিত।
এই ঘটনা তদন্তর জন্য রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেন। এরা হলেন রাঙামাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মোয়াজ্জেম হোসেন, পৌরসভার নিবার্হী প্রকৌশলি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নিবার্হী প্রকৌশলী। এদেরকে আগামী বিশ কর্মকালিন সময়ের মধ্যে তদন্ত রির্পোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অপর দিকে রাঙামাটির পুলিশের সূত্রে জানা যায়, পুলিশ ভবনের মালিক বিরুদ্ধে মামলার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাতেভর জেনারেটর চালিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় ফায়ারব্রিগ্রেড, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা। তাদের সাথে স্থানীয়রাও অংশ নেন। মধ্য রাতে শিশু সাজিদুলের লাশ উদ্ধারের পরে সমাপ্ত হয় উদ্ধার কাজ বলে জানিয়েছেন ফায়ার ব্রিগ্রেড উপ-পরিচালক গোলাম মোস্তাফা।
