মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ : উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন, পার্শ্ববতী সাতকানিয়ার খাগরিয়া, পটিয়ার শোভনদন্ডী এলাকা নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ৩৫ হাজার গ্রাহকেরা লোডশেডিং-এ নাকাল। প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিং হওয়ায় বিদ্যুৎ চালিত ইলেকট্রিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
গত কিছুদিন ধরে চন্দনাইশ, পটিয়া ও সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা লোডশেডিং এর কারণে বিদ্যুৎ পাচ্ছে না। গ্রীষ্মকালের মত তেমন চাহিদা নেই। তবুও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাকাল ৩৫ হাজার গ্রাহক। হঠাৎ করেই জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। বিগত এক মাস ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে এলাকার উৎপাদনমুখী কলকারখানা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সকল এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকেরা দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছে না।
ভুক্তভোগীরা জানালেন, গত একমাস ধরে উপজেলার বরকল, বরমা, সাতবাড়িয়া, বৈলতলী, হাশিমপুর, জোয়ারা, কাঞ্চনাবাদ, চন্দনাইশ পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৫ থেকে ৭ বার আসে আর যায়। ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়েও বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হয় গ্রাহকদের। রাত ১০ টার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ঘুমাতে পারছে না সাধারণ মানুষ। তাছাড়া বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এসব এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সে সাথে আসন্ন জেএসসি, জেডিসি, পিএসসি, এসএসসি, দাখিল সহ পাবলিক পরীক্ষাগুলোর পরীক্ষার্থীরা সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে হাসপাতালের ১৪ রকমের ভ্যাকসিন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বলে জানালেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. বখতিয়ার আলম।
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানালেন, চন্দনাইশে ৩৫ হাজার গ্রাহকের জন্য পিকআওয়ারে ১০ মেগাওয়াট, অপপিকআওয়ারে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং এর আওতায় পড়ছে বিভিন্ন এলাকা। হঠাৎ করে বিশাল এ বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে। চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকার কারণে এলাকা ভিত্তিক ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেডিং করে যাচ্ছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে সন্ধ্যা নামলেই এলাকা অন্ধকারে ঝেকে বসে। শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে জেএসসি পরীক্ষা। আর কিছুদিন পরে শুরু হতে যাচ্ছে পিএসসি পরীক্ষা। তার পরের মাসে রয়েছে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা। এ সকল পাবলিক পরীক্ষার নির্বাচনী পরীক্ষা ইতিমধ্যে শুরু হতে চলেছে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছে লোডশেডিং এর কারণে। পড়াশুনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দিনে ও রাতভর বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ক্লাস চালানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে শিক্ষকদের। অথচ মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কোনভাবে চালানো যাচ্ছে না বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে। দিন-রাত বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার খেলা চলে। সন্ধ্যা হলেই নামে অন্ধকার। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ সকল গ্রাহক দিনে ১০ থেকে ১২ ঘন্টার বেশি বিদ্যুৎ পান না বলে অভিযোগ করেছেন।
