জুবায়ের সিদ্দিকী : চট্টগ্রাম মহানগরে ছাত্রলীগ এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, এরা নিজেদের মধ্যে তুচ্ছ কোন ঘটনা নিয়ে নেমে পড়ে রাস্তায়। ভাংচুর চালায় যানবাহনে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। প্রকাশ্যে রাজপথে অস্ত্রের মহড়া দেয়। মাত্র ২২ ঘন্টার ব্যবধানে আবারও সংর্ঘষে জড়িয়েছে ছাত্রলীগের দুইপক্ষ।
গত ১৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটা থেকে ২ ঘন্টা তান্ডব চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা নগরীর আন্দরকিল্লায়। ছাত্রলীগের সাইফুল আলম রিমন ও ওয়াহিদ রাসেলের অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত দুই পক্ষই সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী। সংঘর্ষ চলাকালে তিনি নগর ভবনের ভেতরে অফিসে ছিলেন।
রাজপথে প্রকাশ্যে ফাঁকাগুলি, ককটেল বিষ্ফোরন, গাড়ী ভাংচুর, দোকান ভাংচুর চালায় ছাত্রলীগের কর্মীরা। সিএনজি টেক্সি, প্রাইভেট কারসহ কমপক্ষে ২০টি যানবাহন ভাংচুর এবং বেশ কয়েকটা দোকানপাটেও চালানো হয় ভাংচুর। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের প্রায় ১৫ জন। সংঘর্ষের সময় ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়।
পেশাগত দায়িত্বপালনের সময় ফটো সাংবাদিক হায়দার আলীকে লাঞ্চিত করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় তার মুঠোফোন। পুলিশ ১১ জনকে আটক করলেও অনেকেই ছিল পথচারী। পুলিশ বলছে, আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলা মুশকিল তবে লাঠিসোটা ও কিরিচ থাকতে পারে।
তবে মেয়র নাছির উদ্দীন বলেছেন, কারা এসব করছে আমি জানি না। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত হোক না কেন তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি পুলিশকে বলেছি।
এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, যুবলীগ নেতা ও মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের কর্মী শশী চক্রবর্তী। গত ১৭ অক্টোবর রাতে এই শশীকে নিয়ে মেয়রের কাছে যান বাবরের প্রতিপক্ষ লিমন। লিমন মেয়রের অনুসারী। প্রতিপক্ষ গ্রুপের কর্মী শশীকে দলে ভিড়ানোর প্রতিবাদ করে ছাত্রলীগ নেতা রাসেল। এই ঘটনায় দুইপক্ষের মধ্যে হয়েছে দফায় দফায় সংর্ঘষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িতরা প্রকাশ্যে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে, ককটেল ছুঁড়ে তান্ডব চালায়। কিরিচ ও লাঠিসোটা নিয়ে করেছে মিছিল। এভাবে নগরীতে বার বার সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটিয়ে তান্ডব চালাচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের এই তান্ডরের শিকার হচ্ছে মানুষ। নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের সম্পদ। নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগ। মুরব্বী সংগঠন আওয়ামীলীগের নেতারা এদের লাগাম ধরে রাখতে বার বার ব্যর্থ হচ্ছেন। ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী ও আন্দোলনকারী শক্তিশালী সংগঠন। এই সংগঠনের সুনাম নষ্ট করছে মুষ্টিমেয় কিছু নেতাকর্মী।
এতে করে আওয়ামীলীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। ক্ষমতার স্বাদ ও টেন্ডারবাজীসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের রণক্ষেত্র তৈরি নতুন নয়। ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগের এই সহিংসতা নগরবাসীকে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় ফেলছে বারবার। ফ্র্যাংকেনষ্টাইন দানবে দিন দিন পরিণত হচ্ছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রনে কোন পদক্ষেপ না নেওয়াতে এরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রী ষ্টাইলে তান্ডব চালাচ্ছে। জনগনকে জিম্মি করে রাজপথকে কুরুক্ষেত্রে পরিণত করছে ছাত্রলীগ।
