জুবায়ের সিদ্দিকী : আওয়ামীলীগ দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এবং মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল। স্বভাবতই এ দলের কাছে দেশবাসীর আশা-আকাঙ্খা ব্যাপক। দেশ ও জনগণের প্রতি দলটির দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক। এই দায়িত্ব পালন করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার মূল দায়িত্বটি এখন দলের নতুন কমিটির উপরই নির্ভর করছে। আগামীতে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি, দারিদ্র বিমোচন, গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রেই সাফল্য ব্যর্থতা নির্ভর করছে তাদের উপর।
এখনও দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী বসবাস করে দারিদ্রের মাঝে। সমাজে মানুষে মানুষে বৈষম্য প্রকট। দূর্নীতি সর্বগ্রাসী। দেশের অবকাঠামোগত দুর্বলতা বাড়ছে। রয়েছে গ্যাস, বিদ্যুৎ ঘাটতি। এসব কারণে কাঙ্খিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন কলকারখানার গতি মন্থর। তৈরি হচ্ছেনা কর্মসংস্থানের সুযোগ। বাড়ছে বেকারত্ব। সঠিক ও দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন করা গেলে জীবনমানের উন্নতি হবে। বর্তমান সময়ে আওয়ামীলীগে হাইব্রিড ও সুবিধাবাদী চক্র তৎপর। দলের কতিপয় নেতার খাই খাই অভ্যাস পরিবর্তন ও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া নেতাদের নতুন কমিটির পদে দেখতে চায়না তৃণমূলের নেতাকর্মীগণ।
যেখানে সেখানে ভূঁইফোড় সংগঠনের ব্যানারে অতিথি হয়ে গিয়ে এমপি ও শীর্ষ অনেক নেতা যেভাবে বেফাঁস কথা বলেন তাতে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে। ক্রেষ্ট বাণিজ্যকারী সংগঠনের ব্যানারে গিয়ে ধান্ধাবাজ কতিপয় নেতার উদ্ভট কথাবার্তা তাদের আচরণ সংযত করতে উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। জেলা বা উপজেলায় অনেক নেতা এতই বেপরোয়া যে, সাংবাদিককে গালগালাজ থেকে শুরু করে বেদম প্রহারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সরকারি কর্মচারী বা পেশাজীবী কাকেও বাদ দিচ্ছেন না। টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসসহ যারা অপকর্মে জড়িত তাদের ত্যাগ করে স্বচ্ছ রাজনীতির অনন্য একটি প্লাটফরমে রূপান্তর জনগণ আশা করেন।
সাধারন জনগণ মনে করেন, দলের খাই খাই নেতাদের চিহ্নিত করা ও তাদের দলের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা উচিত। জননেত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান কমিটিতে তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এই তারুণ্যকে দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শ্রম ও মেধায় সাংগঠনিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। হাইব্রিড, নব্য আওয়ামীলীগার, চাঁদাবাজ, কোটিপতি নেতাদের অযথা তাপালিং বন্ধে সাধারন সম্পাদককে কঠোর হতে হবে। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা-উপজেলায় শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে ধান্ধাবাজ নেতাদের দল ও পদ থেকে বিতাড়িত করতে না পারলে দলকে হয়তো চরমমূল্য দিতে হবে।
