জেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় বিএনপির

0

সিটিনিউজবিডি : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে জেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানান জোটের সমন্বয়ক মির্জা ফখরুল।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য ২৮ ডিসেম্বর দিন ঠিক করে দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নির্বাচনী বিধি ও আচরণ বিধি গেজেট আকারে প্রকাশ করে তফসিল ঘোষণার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান শাসকদল ও নির্বাচন কমিশন ঘোষিত জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের পরিপন্থি। সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে হতে হবে। অথচ বর্তমান সরকার প্রত্যক্ষ ভোটে না গিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে অর্থাৎ ইলেকটোরাল ভোটের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, যা সংবিধান পরিপন্থি।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আলোচনায় বিশেষ প্রাধান্য পেয়েছে আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ, যা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সকল বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে অতীতেও কখনো কোনো নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। তারা আরেকটি নির্বাচন করার সুযোগ পাবে। কিন্তু সেই নির্বাচনও অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ এরা শাসকদলের হুকুম পালন করে থাকে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকার মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করছে। মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, কারো কাছে কোনো জবাবদিহিতা করতে হয় না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনায়াসে মানুষকে তুলে নিচ্ছে, টাকা দাবি করছে। যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাদেরকে জঙ্গি হিসেবে কারাগারে পাঠাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ ও র্যা বের স্ববিরোধিতায় প্রমাণিত হচ্ছে দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। খবরের কাগজ খুললেই প্রতিনিয়ত হত্যা, হত্যা আর হত্যা। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিতরা বেশি লাইসেন্স পেয়ে গেছে, তাই তাদের কোনো কিছুতেই জবাবদিহিতা নেই।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে বৈঠকে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা নুর মুহাম্মদ কাশেমী, জামায়াতে ইসলামীর মঞ্জুরুল ইসলাম ভুঁইয়া, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুল করীম, খেলাফত মজলিশের মাওলানা শফিক উদ্দিন, জাগপার খোন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন সাউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, লেবার পার্টির শামসুদ্দিন পারভেজ, মাহমুদ খান, ন্যাপ-ভাসানীর গোলাম মোস্তফা, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সাম্যবাদী দলের এসএম হানিফুল কবীর, ডিএলের মতিউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.