চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীদের দুর্ভোগ

0

জুবায়ের সিদ্দিকী/দিলীপ তালুকদার : চট্টগ্রাম-ঢাকাসহ সারাদেশের রেলওয়েতে বগি কম থাকার কারণে আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী ট্রেন ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে রেলওয়েতে দৈনিক দেড় কোটি টাকা আয় হারাচ্ছে সরকার। এক একটি আন্ত:নগর ট্রেনে কমপক্ষে ১৪টি বগি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে গড়ে ৭-৮টি বগি দিয়ে চলাচল করছে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য প্রায় ২শ’ বগি কেটে রাখা হয়েছে। বগি সংকটে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ট্রেনযাত্রী ভ্রমণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে ভারি হচ্ছে লোকসানের তালিকার পাল্লা।
রেলওয়ের তথ্য অনুসারে, দু’অঞ্চলের বর্তমানে প্রায় ২৬৮ টি যাত্রীবাহী বগি কম নিয়ে বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল করছে। পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে ৪৪টি আন্ত:নগর, ৮০টি মেইল ও লোকাল ট্রেন, পশ্চিমাঞ্চলে ৪৪টি আন্ত:নগর, ১০০টি মেইল ও লোকাল ট্রেন রয়েছে। অথার্ৎ ৮০টি আন্ত:নগর, ১৮০টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বগি কম নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিটি আন্ত:নগর ট্রেনে কমপক্ষে ১৪টি সর্বোচ্চ ১৭-১৮টি বগি থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে কোন কোন আন্ত:নগর ট্রেনে ৩ থেকে ৬টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। কয়েকটি ট্রেন মাত্র ১০টি থেকে ১২টি বগি নিয়ে চলাচল করছে।
রেলমন্ত্রী বলছেন, যাত্রীবাহী কোচ স্বল্পতা রেলওয়ের দীর্ঘদিনের। এদিকে, যাত্রীসেবা নিয়ে রয়েছে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ। চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন ট্রেন ও পাহাড়িকা ট্রেন নামে ২টি ট্রেনের বগির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। ছাদে দিয়ে পানি পড়া, সিট ছেড়া, হাতল ভাঙ্গা, ফ্যান নষ্ট, বাথরুমে পানি না থাকা, বিদ্যুৎ থাকা না থাকা যেন প্রতিদিনের চিত্র। এই ২টি ট্রেন আন্ত:নগর ট্রেন বলা হলেও ভেতরের দৃশ্য অত্যন্ত ভয়ংকর। এর চেয়ে মালগাড়ির ভেতর অনেক পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রয়েছে। ট্রেনের সময়সূচী নিয়ন্ত্রণ করেন রেলওয়ে নাকি ভূতে তা কখন যাত্রীগণ অনুধাবন করতে পারেননা। সিডিউল বিপর্যয়, অপরিস্কার, টিকেট কালোবাজারী, টিকেটের স্বল্পতাসহ নানা সমস্যা রেলওয়ে আষ্টেপৃষ্টে বাধলেও কোন রকম পরিবর্তন বা পরিবর্ধন নেই। ২০০১ সাল থেকে নতুন বগি যোগ হয়নি। সম্প্রতি ভারত থেকে ৬০ টি যাত্রী বগি আনা হয়েছে। এছাড়া ভারত ও ইন্দেনেশিয়া থেকে পর্যায়ক্রমে আরও ২১০টি যাত্রীবাহী বগি চলতি বছরের মধ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়।
অনুসন্ধানে জানা যায় যে, রেলওয়েতে সাদা বিড়াল থাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অবহেলা, অযতেœর, বদলী বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজীসহ নানাভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে রেলওয়ে। মানুষকে কোনভাবে সেবা দিতে পারছেনা। চট্টগ্রাম রেলওয়ে নতুন স্টেশন ও পুরাতন রেলওয়ে ষ্টেশন বর্তমানে ভবঘুরে মানুষের ঠিকানা ও মাদকদ্রব্যের বেচাকেনার হাটে পরিণত হয়েছে। পকেটমার, বখাটে, মাদকসেবী, মাদকবিক্রেতা, দেহপ্রসারিনী, প্রতারকসহ অপরাধীদের নিরাপদ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। পুরাতন ষ্টেশন এলাকায় পরিত্যক্ত বগিগুলোতে বসে জুয়ার আসর, মদের আসর ও অসামাজিক কাজ। অথচ রেলওয়ে পুলিশ, জিআরপিসহ রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী থাকলেও অপরাধের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে।
নতুন রেল ষ্টেশনে টিকেট কাউন্টারে কর্মরত স্টাফরা যাত্রীদের সাথে অসাদাচরণের ঘটনাও ঘটছে। কারণ টিকেট কাউন্টারে কর্মরত অধিকাংশ স্টাফদের সাথে কালোবাজারীদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে। অহরহ টিকেট কালোবাজারীতে ব্যস্ত এসব কর্মচারী।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.