আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র স্মৃতি অম্লান থাকবে – ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :   আওয়ামী লীগের রাজনীতির উজ্জ্বল নাম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তাঁর স্মৃতি অম্লান থাকবে বলেও মন্তব্য করেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। আওয়ামী লীগকেও দুর্বল করবে নিজেদের মাঝে কোন্দল থাকলে । ব্যক্তি ভিত্তিক বিভাজিত রাজনৈতিক দল কখনো শক্তিশালী হতে পারে না, এ ধরনের দলগুলো দুর্বল দলে পরিণত হয়।তাই নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই- ‘আওয়ামী লীগ করুন, আমি লীগ নয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি গতকাল এসব কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র স্মরণসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছিলেন।

গতকাল বিকেলে নগরীর মুসলিম ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আখতারুজ্জামান চৌধুরীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আখতারুজ্জামান বাবু শুধু আমার সহপাঠী ছিলেন না, যতদিন বেঁচে ছিলেন আমরা ঘনিষ্ঠভাবে একসাথে রাজনীতি করেছি। সকল প্রলোভনকে উপেক্ষা করে তিনি আওয়ামী লীগে বিশ্বস্ততার সাথে ছিলেন। আবার নির্যাতনের মূখেও অকুতাভয়ভাবে আওয়ামী লীগ করেছেন। তার মত নেতা আমাদেরকে ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে চট্টগ্রাম উত্তর-দক্ষিণ ও মহানগর আওয়ামী লীগ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইসহাক মিঞা, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ ছালাম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়েশা খান ও সংসদ সদস্য সাবিহা মুছা প্রমুখ।

প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ইসহাক মিঞা বলেন, বাবু সবসময় এক কথার মানুষ ছিলেন। বর্তমান রাজনীতিতে এক কথার মানুষ নেই। কিন্তু মৃত্যু পর্যন্ত বাবু একজন খাঁটি রাজনীতিক ছিলেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২১ ও ৪১ বাস্তবায়নে বাবু ভাইয়ের মত নেতাদের জীবনাদর্শকে ধারণ করতে হবে।

সাবেক সিটি মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, বাবু ভাই কথা ও কাজে এক থাকতেন। তিনি মনে কোনদিন শত্রুতা পুষে রাখতেন না। রাজনীতিতে শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শন দরকার। বাবু ভাই আমাদের কাছে থেকে বহু দূরে চলে গেছেন। তিনি আজ কিছু চান না। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বহু সংকট পেরিয়ে দেশকে একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। তার নেতৃত্বের প্রতি অটুট আস্থা রেখে যাতে দলকে ঐক্য রাখা যায় তা দেখতে হবে। বাবু ভাইয়ের দৃষ্টান্ত আমরা অনুসরণ করলে আমাদের রাজনীতি সুন্দর হবে। মন্ত্রী না হয়েও তিনি দলের জন্য কাজ করেছেন। সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু সর্বক্ষেত্রে সফল মানুষ ছিলেন। অনেক কঠিন সময়ে তাকে আমি দেখেছি দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিতে। বাবু ভাইয়ের মতো নেতা সত্যিই এ যুগে বিরল। বাবু ভাই ছিলেন দলের ঐক্যের প্রতীক।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, বাবু ভাই একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি হলেও তার বাড়িতে সর্বসাধারণের অবাধ যাতায়াত ছিল। নেতৃত্বের মধ্যে বিতর্ক থাকলেও ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথে তিনি সৌজন্যতা দেখাতেন। আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংগঠন, কর্মীদের কাছে সকলকে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কর্মীদের কোন ত্যাগকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। তিনি বলেন, একদিন আমরাও থাকবো না, তবে মনে রাখতে হবে সকল কর্মীদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ আমাদের দলে থাকতে হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নৌকার গতিশীলতা আনতে হবে। সবাইকে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সদ্য ঘোষিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ে এক অভূতপূর্ব দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কমিটি। এই কমিটির নেতৃত্বে মানুষের হৃদয়ে আওয়ামী লীগকে স্থান করে দিতে হবে।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসক এম এ সালাম বলেন, বাবু ভাইয়ের বাড়ি থেকে কাউকে মুখ কালো করে আসতে হয় নি। জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে বাবু ভাইয়ের আস্থার সম্পর্ক ছিল। চট্টগ্রাম তাদের নামের সাথে উচ্চারিত হয়। তাঁর কাছ থেকে আনুগত্য, বিশ্বাস ও আস্থার ভাষা শিখতে হবে। আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, বাবু ভাই নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি সকল পরিচিতি ছাপিয়ে রাজনীতিবিদ পরিচয়েই স্বাচ্ছন্দ বোধ করতেন। সামরিক স্বৈরশাসকের মন্ত্রী হবার প্রলোভন তাকে টলাতে পারেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা গড়তে পারলেই বাবু ভাইয়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।

সভায় অন্যান্যদের মাঝে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি জিতেন্দ্র প্রসাদ মন্টু, মহানগর আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এড. জহির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, আইন সম্পাদক এড: মির্জা কছির উদ্দিন, শ্রম সম্পাদক খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক আবু জাফর, শিক্ষা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন এমরানসহ উত্তর-দক্ষিন ও মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন ।

এ বিভাগের আরও খবর
আপনার মতামত লিখুন :

Your email address will not be published.