বাবর মুনাফ : প্রবাসী রফিক(৫৫)পুনরায় বোয়ালখালী খরণদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৩ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে গতকাল শনিবার বিয়ের চেষ্টা চালানোর সময় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে আবারো অর্থ ও কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। জানা যায়- রাউজান উপজেলার কচুখাইন এলাকার মৃত ইউনুচের পুত্র ৩ সন্তানের জনক মো. রফিকের (৫৫) সাথে বোয়ালখালী উপজেলার খরণদ্বীপ এলাকার জনৈক বাদশা মিয়ার স্কুল পড়ুয়া শিশু কন্যার অসম বিয়ের খবর পেয়ে গত ১৬ অক্টোবর প্রথমবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালায় বোয়ালখালী ইউ এন ও। এ সময় বর মো. রফিক,কনের সৎ মা রোজী আকতার ও পিতা বাদশা মিয়াকে বাল্য বিয়ে নিরোধ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ১হাজার টাকা করে জরিমানা ও কনের প্রাপ্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে নয় মর্মে মুচলেকা নেয় আদালত।
কিন্তু রফিক আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নগরীর কামাল বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পুনরায় বিয়ের আয়োজন করছিল মর্মে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রফিককে আটক করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। পরে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজি মাহাবুবুল আলমের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিয়ে পাগল মোঃ রফিককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা, কনের পিতা বাদশা মিয়া এবং সৎ মা রোজিনা আকতারকে ১ হাজার টাকা করে আবারো অর্থদণ্ড দেয় আদালত।
সূত্রে জানা যায়- এক সময়ের কাতার প্রবাসী রফিকের পূর্বে ১৯৯৫ সালে ইয়াছমিন আকতারকে (৪৩) বিয়ে করে। সে সংসারে ইয়াছিন আরাফাত (১৯) সাদিয়া আরাফাত(১৭) ও সামিনা আরাফাত (১১) নামের এক পুত্র ও দু’কন্যা রয়েছে। যাদের মধ্যে বড় ছেলে মালেশিয়ার একটি ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, এক কন্যা ইসলামী ইউনিভার্সিটি ও ছোট মেয়ে নগরীর সানমুন স্কুল এন্ড কলেজে ৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। মূলত রফিকের সাথে এ সংসারের বনিবনা না হওয়ায় রফিক গোপনে এখানকার খরনদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত এ শিশু শিক্ষার্থীকে বিয়ে করতে গিয়ে বার বার দণ্ডিত হচ্ছেন।
