দিলীপ তালুকদার : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আরে দুই বছরের বেশী সময় বাকী থাকলেও নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপি। গত ৮ নভেম্বর টুঙ্গীপাড়ায় অনুষ্ঠিত আওয়ামীলীগের প্রথম যৌথ সভায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবার জন্য দলীয় নেতাদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, আওয়ামীলীগ আর কোন প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে যেতে চায় না। এ জন্যে এখন থেকে জনগনের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে আগাম ভোট চাইতে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে দলের মন্ত্রী এমপি নেতাকর্মীদের বেফাঁস কথাবার্তা না বলার জন্য কঠোর নির্দেশও দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এদিকে অন্যতম প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি নিজেদের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অবাধ সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। দলটি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সর্বজন গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠন এবং নির্বাচনকলীন সরকারের (কেয়ার টেকার সরকারের আদলে) একটি রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া খুব শিগগিরই জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়,গত বারের মত রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে তারা মানবেন না। তারা চাচ্ছেন সর্বজন গ্রহনযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন। সেকথা গত কয়দিনে দলের সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন সভায় তুলে ধরেছেন।
এদিকে, অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় বর্তমান আওয়ামীলীগ বেশ উজ্জিবীত। দলের ২০ তম জাতীয় সম্মেলন সফলভাবে শেষ করতে পারা, এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি ঘোষনা এবং পদ পদবীর ব্যাপারে কোন ধরনের দলীয় কোন্দল বা বিশৃংখলার কোন বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়াকে দলীয় নিতিনির্ধারনী মহল খুবই ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
দলীয় একটি সূত্র জানায়, নব গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতার সহসা জেলা সফর করবেন। জেলা উপজেলা কমিটির নেতাকর্মীদের মতামত শুনবেন। আগামী নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে সেভাবে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
তবে মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা বলেন, বর্তমানে দেশের উপজেলা কমিটিগুলো উপদলীয় কোন্দলে দ্বি-ধারা, ত্রি-ধারায় বিভক্ত। সাথে রয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অংগসংঠনগুলোও। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের ওপেন মারামারি, অন্যের জায়গাজমি দখল, চাঁদাবাজি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর দলীয় অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। এ উশৃংখলাতাকে শক্ত হাতে দমন করা না গেলে বড় মাশুল দিতে হবে দলকে এ অভিমত সাধারন জনগনের।
