জুবায়ের সিদ্দিকী : আগামী ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোর প্রস্ততি নিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য এবং চেয়ারম্যান পদে ভোটগ্রহণ হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন যাঁরা চায়বেন তন্মধ্যে, ফটিকছড়ির ড. মাহমুদ হাসানের নাম বেশ জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। তিনি ওয়ান ইলেভেনে দলের দুর্দিনে বির্তকিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সেই সময় রাজনীতি করে আলোচনায় এসেছিলেন। বিগত নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে প্রবল সম্ভাবনা ও এলাকায় জনপ্রিয়তা থাকার পরও তিনি মনোনয়ন বঞ্চিত হন। সূত্রমতে, ১৯৭৩ সালে নাজিরহাট কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংঠনিক সম্পাদকের দাািয়ত্ব পালনের মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া ড. মাহমুদ হাসান স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবে রাজনীতি করে যাচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ড. মাহমুদ হাসান ৭৫’এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করার পর নাজিরহাট কলেজে বিদ্রোহ করার পরিকল্পনা করলে খন্দকার মোশতাখ সরকার তাঁকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গেলেও একদিনের জন্যও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ভুলে থাকেননি তিনি। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুর জলিল অনুমোদিত মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের রহমত বাড়ীর আলহাজ্ব মরহুম মকবুল হোসেন ও মরহুমা লায়লা বেগমের বড় ছেলে তিনি। ১৯৫৫ সালের ২৫ ডিনেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা জীবনে নানুপুর আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি, নাজিরহাট কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে এইচএসসি, সাউদান প্যাসিফিক ইউনির্ভাসিটি ইউ.এস.এ থেকে ১৯৯৪ সালে বিএ এবং প্যারামাউন্ট ইউনির্ভাসিটি থেকে ২০০৪ সালে ডক্টরেট অব ফিলোসফি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি কর্ম জীবনে ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপ, থাইল্যান্ড, চায়না, ফিলিপাইন, জাপান, কোরিয়া, তুরষ্ক, সৌতিআরব, দুবাই, কুয়েত, বাহারাইন, মসকেট, ইরান, কাতার, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি বাংলা, ইংরেজী, আরবী, হিন্দি, উর্দু, ফার্সি, পস্তু, মালয় ও তামিল ভাষায় পারদর্শী। তিনি নাজিরহাট কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (১৯৭৩), নানুপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি (১৯৭৯), মালয়েশিয়া আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মালয়েশিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি, চট্টগ্রাম উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য, সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের চট্টগ্রাম উত্তরজেলার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি, চট্টগ্রাম মহানগরীর শুলকবহর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি (১৯৮৮-৯৮) সহ দলের বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ফটিকছড়ির বাংলাপাড়া সরকারী প্রাথামিক বিদ্যালয়, সেতছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জিলতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জঙ্গল দাঁতমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়াও ফটিকছড়ির অন্তত ৩৭টি উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য তিনি। ফটিকছড়িতে ‘ড. মাহমুদ হাসান মহিলা কলেজ’ ও ‘ড. মাহমুদ হাসান মেটারনিটি ক্লিনিক’ প্রতিষ্ঠা করছেন।
প্রসঙ্গত, বিগক ওয়ান ইলেভেনের সময় গ্রেফতার আংতকে অন্যান্য শীর্ষনেতারা যখন গা ঢাকা দিয়েছিলেন, তখন অন্ত্যান্ত সাহসীকতার সাথে ফটিকছড়িতে তিনি আওয়ামী রাজনীতিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি গণমানুষের পাশে থেকে ছিলেন। ফটিকছড়িতে সাবেক এমপি মরহুম রফিকুল আনোয়ারের দানবীর হিসেবে ড. ম্হামুদ হাসানকে সম্বোধন করা হয়। ফটিকছড়ি ছাড়াও ড. হাসানের অনুদানের ছোঁয়া পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়। তিনি ফটিকছড়ির বাইরে মিরেরসরাই, হাটহাজারী, রাউজান, পটিয়া, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া সহ চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিয়মিত অনুষ্ঠান করে আলোচনায় আছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি মুখ না খুললেও তাঁর কর্মী-সমর্থকরা চায়ছেন তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হোক। দলের দুঃসময়ের নেতা মাহমুদ হাসান নৌকা প্রতীক পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন ফটিকছড়িবাসী। ওয়ান ইলেভেনের ত্যাগী নেতা মাহমুদ হাসানকে দলের মূল্যায়নের এখনই কাংখিত সময় বলে মত দিয়েছেন অনেকেই। রাজনীতির মাঠের বিচক্ষণ ও দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বত্রে ড. হাসানের সুনাম রয়েছে।
এ বিভাগের আরও খবর
